করোনা: বাগেরহাটে ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ১০:৪১ পিএম

বাগেরহাটে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সময় গণপরিবহনসহ সব ধরনের ইঞ্জিন ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন এবং জেলার সব দোকানপাট, শপিংমল বন্ধ থাকবে। তবে, মোংলা বন্দরে আসা দেশি-বিদেশি জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ চলবে।

বুধবার বিকেলে জেলা করোনা প্রতিরোধ মনিটরিং কমিটির জরুরি এক ভার্চুয়াল সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা থেকে প্রশাসনের ঘোষিত লকডাউন কার্যকর হবে। আগামী ৩০ জুন মধ্যে রাত পর্যন্ত এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ থাকবে।

এ বিষয়ে ৮ নির্দেশনা দিয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। লকডাউনের মধ্যে অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে আসতে পারবে না। সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধ যাতে কার্যকরী হয় সে জন্য স্থানীয় সচেতনমহলের সহযোগিতা চেয়েছে জেলা প্রশাসন।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে আসা দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক থাকবে। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ইপিজেডের সকল কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় জেলার নয় উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

তবে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির দোকান (কাঁচা ও মাছ বাজার) খাবারের দোকান, ওষুধের দোকান জরুরি রোগী আনা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা এর আওতামুক্ত থাকবে।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্থানীয়দের কেনাকাটার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে।

গত ৩০ মে থেকে বাগেরহাট জেলায় করোনার সংক্রমণ অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। জেলার মোংলা উপজেলাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এখানে গত ৩০ মে থেকে তিন দফায় কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়ার পরেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত তিন সপ্তাহের অধিক সময় ধরে এই জেলায় সংক্রমণের হার ৪০ থেকে ৭৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

বাগেরহাট জেলায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমণে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৩৬জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৫০ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে নারী-পুরুষ মিলিয়ে মারা গেছেন ৭২ জন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, কিছুদিন যাবৎ বাগেরহাটে করোনা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ১৫ দিন যাবৎ জেলায় করোনায় আক্রান্তের গড় হার ৪২ শতাংশ। কয়েক দিনে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, স্বাস্থ্য বিভাগ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেছি। সবার কাছ থেকে যে তথ্যটি এসেছে তা এলার্মিং। তা হলো এখানকার মানুষ করোনার টেস্ট করতে চায় না। অনেকেই করোনা উপসর্গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি হলো সবচেয়ে বিপজ্জনক। এরা ঘুরে বেড়ানোর কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। বাগেরহাটের গ্রামে গঞ্জে ঘরে ঘরে সর্দি জ্বর, কাশি বিরাজমান। সর্বত্র করোনার উপসর্গ বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবার সর্বসম্মতিক্রমে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আগামী ৩০ জুন মধ্যে রাত পর্যন্ত সারা জেলায় সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে জেলা ও আন্তজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। বিধিনিষেধের মধ্যে নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ব্যতীত মার্কেট, শপিংমল সব বন্ধ থাকবে। সবাই যাতে বিধিনিষেধ মেনে চলে সে জন্য জেলার সকল পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদকে মাইকিং করে প্রচার করতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর কঠোর বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। বন্দরে আসা দেশি-বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ স্বাভাবিক থাকবে। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ইপিজেডের সকল কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বন্দরে আসা জাহাজের নাবিকরা যাতে নিচে এসে স্থানীয়দের সাথে মেলামেশা করতে না পারে সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মেনে চলে সে জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল করা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে মাঠে থাকবে। বিধিনিষেধ সফল করতে প্রতিটি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত