টাঙ্গাইলে ব্যাংকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ০২:৪২ পিএম

গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকিং বুথের এক এজেন্ট। প্রতারক এজেন্ট সারোয়ার হোসেন সবুজ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, তিন বছর আগে ডাচ-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন সবুজ। বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন তিনি।

আইসড়া তাঁত সমৃদ্ধ গ্রাম। এখানে অনেক পরিবারের সদস্যই প্রবাসী, তাদের বাবা-মা ও স্ত্রীদের টার্গেট করেন সবুজ। স্থানীয়রা অভিযোগে বলেন, ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে উচ্চ হারের মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন এ ছাত্রলীগ নেতা।

অতি মুনাফার আশায় গ্রামের অনেকে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন। সম্প্রতি টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন তাদের জমানো অর্থ ব্যাংক হিসেবে নেই।

সবুজের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন তাল বাহানা করতে থাকেন। টাকা না পেয়ে এক সময় গ্রাহকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, বাজারে সালিশি বৈঠকও বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। হঠাৎ সপ্তাহ খানেক আগে সবুজ ব্যাংক বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল-সমাবেশ করেন। 

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগে জানা গেছে, গ্রাহক রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু বেগমের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন সবুজ। 

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও ব্যবসায়ী রাজু বলেন, আমিও পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছি। ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা না হলে সবুজ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেতো না। আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।

গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছি। সে এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারিনি। প্রথম যখন টাকা জমা রাখি তখন মোবাইলে এসএমএস আসতো। পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসতো না। এ বিষয়ে তাদের জানালে তারা বলতো সার্ভার নষ্ট হয়েছে।

গ্রাহক আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো নয় লাখ টাকা আমার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চহারের মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা ওঠাতে গেলে জানতে পারি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। সে এমন প্রতারক ভাবতেও পারিনি।

ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সকল গ্রাহক, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক এজেন্ট সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশি বৈঠকে বসা হয়। সবুজের বাবা তার সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধে রাজি হন। সকলের উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে টাকা পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, সবুজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রমাণ পেলে দল থেকে বহিষ্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, এ ঘটনা নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি মিটিং করেছে। স্থানীয় পর্যায়ের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত