নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বকুল তা বাড়িতে থাকা অবস্থায় লালপুর উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে সাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ওই খাদ্য কর্মকর্তার পেটে পিস্তল ঠেকিয়ে সাদা কাগজে ‘আট লাখ টাকা দেনা’ লিখে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ ওঠে।
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই বাগাতিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে রাতেই গোয়েন্দা পুলিশ অভিযুক্ত রাসেল ও কালামকে আটক করেছে।
সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তার লিখিত অভিযোগে বলেন, কয়েক দিন ধরে রোকন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বকুলের ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে আমাকে দেখা করতে বলেন। ফলে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে আমি বাগাতিপাড়ায় সংসদ সদস্যের বাড়ি যাই। এ সময় সংসদ সদস্যের নিজ কক্ষে বসে ১০ মিনিট কথা বলার পর তিনি উঠে অন্যত্র চলে যান। এ কক্ষে আগে থেকে সংসদ সদস্যের সঙ্গে রোকন, রাসেল ও কালাম বসে ছিলেন। সংসদ সদস্য চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমিও বের হয়ে আসার চেষ্টা করলে রাসেল বাইরে থেকে ওই ঘরের দরজা আটকে দেয়।
তিনি বলেন, এ সময় তাদের সঙ্গী কালাম আমার পেটে একটি পিস্তল ঠেকিয়ে আমাকে বসে থাকতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে সাড়ে চার ঘণ্টা পর আমাকে দিয়ে সাদা কাগজে লিখিয়ে নেয় যে, ‘আমি রাসেলের নিকট থেকে আট লাখ টাকা ধার নিয়েছি এবং আজ সন্ধ্যার মধ্যেই তা পরিশোধ করব’। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রোকন ফোন করে বলেন, ‘লেনদেনটা সেরে ফেলেন, কখন দেবেন?’
এ বিষয়ে খাদ্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ওই রাতেই তিনি এজাহার লিখে নিয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় জমা দেন। এর কিছু সময় পর জেলা পুলিশের নির্দেশে লালপুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত রাসেল ও কালামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
অভিযুক্ত আটক রাসেল লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের এবং কালাম গোপালপুর পৌরসভার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা।
শুক্রবার বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলামের কাছে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
নাটোরের গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শফিকুল ইসলাম দুজন রাসেল ও কালামকে আটকের কথা নিশ্চিত করেন। এই দুই মূল অভিযুক্ত গোপালপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকনের সহযোগী বলে জানা গেছে। রোকন এমপির ঘনিষ্ঠ বলেও সূত্র জানায়।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বকুল তার বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তা তার বাড়ি আসার পর কথা বলে চলে গেছেন। তার বাড়িতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব মিথ্যা অভিযোগ।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে লালপুর উপজেলার গোপালপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং এ মামলার বাদী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বাসা থেকে ২০০ বস্তা সরকারি গম উদ্ধার করা হয়।
পরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি আক্তার ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্রলাল চাকমার উপস্থিতিতে উদ্ধার ২০০ বস্তা গম খাদ্য গুদামে স্থানান্তর করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি আক্তার জানান, গোপালপুর সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ২০০ বস্তা সরকারি গম নিজের বাসায় সরিয়ে রেখেছেন এমন খবর পাওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, পরে গমের বস্তাগুলো পুনরায় গোডাউনে মজুত করা হয়।
‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে’ নিজের বাসায় গম রাখার বিষয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামে বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্রলাল চাকমা।
তবে একটি সূত্র জানায়, গুদামে জায়গা না হওয়ায় যথাযথ সম্মতিতে বস্তাগুলো ওই বাসায় রাখা হয়।
