একদিনের ব্যবধানে হিলিতে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ০৩:৪৬ পিএম

লকডাউনের খবরে ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা ও সরবরাহ কম থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজের আড়তগুলোতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬ থেকে ৭ টাকা করে। তবে পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতাদের দাবি, বাড়তি চাহিদা পুঁজি করেই ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন।

সরেজমিন হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকদের আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সবগুলো আড়তেই কম বেশি পেঁয়াজ রয়েছে, সবগুলো আড়তেই পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

একদিন আগেও এই আড়তগুলোতে ব্যালেন্সের পেঁয়াজ কিছুটা নিম্নমানের (ছালউঠানো) বিক্রি হয়েছিল ১৬ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে। এক দিনের ব্যবধানে সেই পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা কেজি দরে। তারপরেও পেঁয়াজ নেই এমন অবস্থা। আর যে ভালোমানের পেঁয়াজ একদিন আগে বন্দরে ২৩ থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল সেই পেঁয়াজ আড়তে এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।

একইভাবে হিলি বাজারেও খুচরাতে পেঁয়াজের দাম ২৪/২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের আড়তগুলো থেকে পেঁয়াজ কিনতে আসা মাজনার রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার শুনতেছি এক সপ্তাহের লকডাউন দিবে সে সময়ে পেঁয়াজের সরবরাহ থাকবে কিনা যার কারণে দাম বাড়তে পারে এই চিন্তা থেকে একটু বেশি করে পেঁয়াজ কিনতে এসেছি। আমরা নিয়মিতই পেঁয়াজ কিনে নিয়ে গিয়ে গ্রামের হাট বাজার গুলোতে বিক্রি করে থাকি। কিন্তু গতকাল যে পেঁয়াজ ১৬ থেকে ১৭ টাকা বিক্রি হয়েছে সেই পেঁয়াজ দাম বেড়ে ২৪ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আমরা তো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি, কি দামে কিনবো আর কি দামে বিক্রি করবো। আমার মতো অনেকেই পেঁয়াজ কিনতে এসে একই অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন। একদিনের ব্যবধানে এমন কী হলো যে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৭ টাকা বেড়ে গেল। সব আড়তেই পেঁয়াজ রয়েছে তারপরেও ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

পেঁয়াজ কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরাতো পেঁয়াজ কিনতে এসে বিপদের মধ্যে পড়ে গেছি। আজকে সকালেই শুনলাম ২২ টাকা কেজি পেঁয়াজ, আর এখন কিনতে এসে শুনতেছি ২৮ টাকা থেকে ৩০টাকা কেজি পেঁয়াজ।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক নাজমুল আলম চৌধূরী বলেন, গতকাল কনসার্নমেন্ট পূর্ণ না হওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হলেও তা খালাস করা যায়নি। আজকে কনসার্নমেন্টের বাকি পেঁয়াজ ঢুকলে কনসার্নমেন্ট পূর্ণ হলে বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস হবে। তবে আগের দিনের কিছু ব্যালেন্সড পেঁয়াজ নিম্নমানের আছে যা বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা থেকে ২৫টাকা কেজি দরে। আর ভালো মানের পেঁয়াজ ২৭ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে।

এছাড়াও বন্দর দিয়ে পাথরসহ অন্যান্য পণ্যের যানজটের কারণে স্বাভাবিক গতিতে পেঁয়াজ আমদানি না হতে পারার কারণেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমার কারণেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আমদানি একটু কম মনে হচ্ছে শনিবার বন্দর দিয়ে যেখানে ৩৬টি ট্রাকে ১ হাজার ৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। রবিবার সেখানে ৭টি ট্রাকে ১৮২ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২ ট্রাক পেঁয়াজ খালাস হয়েছে, বাকি ৫ ট্রাক পেঁয়াজ বন্দরে হল্টেজ অবস্থায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত