মাদকের মামলায় দণ্ডিত শরীয়তপুরের মানিক মিয়ার বদলে গ্রেপ্তার মানিক হাওলাদারকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে প্রকৃত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা কেন জারি করা হবে না- এ মর্মে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।
নিরপরাধ মানিক হাওলাদারের মুক্তির নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারিক তদন্তের প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে সোমবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালত আদেশে সিরাজগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজকে এই মামলার সিডি (নথি) হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেয়। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী পার্থ সারথী রায়। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
মাদকের এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি কে সেটি নিরূপণ করতে গত ৮ মার্চ শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।
অ্যাডভোকেট পার্থ সারথি রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিচারিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই মানিক দণ্ডিত আসামি মানিক মিয়া নন। মানিক হাওলাদারকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ মামলার বিস্তারিতসহ মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বাদী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য নিতে শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী জানান, ২০০৯ সালের ২ জুন র্যাব অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ফেনসিডিলসহ চার ব্যক্তিকে আটক করার পর দিন সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা হয়। আসামিদের একজন শরীয়তপুরের ব্যাপারী কান্দি গ্রামের মানিক মিয়া। গ্রেপ্তারের কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে পলাতক হন তিনি। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায়ে চার আসামিকে চার বছর করে কারাদণ্ড দেয় সংশ্লিষ্ট আদালত। মানিক মিয়ার নামে আদালতের একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সখীপুর থানায় আসে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর। সখীপুর থানার পুলিশ গত বছর ২৮ নভেম্বর ওই থানার আলম চান ব্যাপারী কান্দি গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।
