ইংল্যান্ডের ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক জিওফ হার্স্ট। তার হ্যাটট্রিকে ওয়েম্বলির ফাইনালে ইংল্যান্ড ৪-২ গোলে হারিয়েছিল জার্মানিকে। ফুটবলের বড় কোনো টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে জার্মানির সঙ্গে সেটিই ইংল্যান্ডের একমাত্র জয়।
এরপর আর একজন জিওফ হার্স্ট খুঁজে পায়নি ইংলিশরা। তাই অধরা থেকে গেছে নকআউটে জার্মানির বিপক্ষে জয়। মঙ্গলবার ওয়েম্বলিতে ইউরোর শেষ ষোলোতে আবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি জার্মানি। হ্যারি কেইন, রাহিম স্টার্লিংদের কেউ কি সেই আক্ষেপ ঘোচাবেন?
ফুটবলে ইংল্যান্ড-জার্মানি লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। ১৯৬৬’র বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচের ১১ মিনিটে হেলমুট হ্যালারের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মানি। আট মিনিট পর সেটি শোধ দেন হার্স্ট।
৭৮ মিনিটে মার্টিন পিটারের গোল ইংল্যান্ডকে ২-১-এ এগিয়ে নেওয়ার পর ৮৯ মিনিটে উলফগ্যাং ওয়েবারের আরও একটি সমতাসূচক গোল খেলাটিকে নিয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে আরও দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন হার্স্ট।
হঠাৎ পুরো ম্যাচটির ঘটনা বলার কারণ অবশ্য আরও আছে। সেই ফাইনালে হার্স্টের দ্বিতীয় গোলটি নিয়ে বিতর্ক আছে। হার্স্টের শট ক্রসবারে লেগে নিচে পড়ে বেরিয়ে এসেছিল। জার্মানির দাবি ছিল, বল গোললাইন পেরিয়ে যায়নি। কিন্তু সহকারীর সঙ্গে আলোচনা করে রেফারি গোলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পরে ২০১০ সালে জার্মানি-ইংল্যান্ড ম্যাচেও এমন একটি ঘটনা ঘটে। তবে সেটি যায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেইনে দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও জার্মানি। ৩৮ মিনিটে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের শট ক্রসবারে লেগে গোললাইন পেরিয়ে মাটিতে পড়েছিল। টিভি রিপ্লেতে পরিষ্কার হলেও লাইন্সম্যান তা দেননি। সেই সময় ২-১ গোলে এগিয়ে থাকা জার্মানি শেষ পর্যন্ত জেতে ৪-১ ব্যবধানে।
এমন ঘটনা অবশ্য এখন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, এখন ভিএআর ব্যবহার করা হয়। ’৬৬-র সেই ফাইনালের পর চারবার নকআউট রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও জার্মানি। কিন্তু কোনোটাতেই জয় পায়নি ইংলিশরা।
১৯৭০’র মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও জার্মানি। সেই ম্যাচ জার্মানি জেতে ৩-২ ব্যবধানে। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে অমীমাংসিত থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গার্ড মুলারের গোলে নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের।
২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় জার্মানি-ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিট ১-১ গোলে অমীমাংসিত থাকায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ গোলে জেতে জার্মানরা।
৬ বছর পর ঘরের মাঠের ইউরোর সেমিফাইনালে আবার দেখা জার্মানি-ইংল্যান্ডের। ওয়েম্বলিতে সেবার ১-১ সমতা ছিল নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়। আবার টাইব্রেকার। এবার স্কোরলাইন জার্মানির পক্ষে ৬-৫। সবশেষ ২০১০ বিশ্বকাপ শেষ ষোলোর ঘটনা আগেই বলা হয়েছে।
ইংল্যান্ড আজ জার্মানির সঙ্গে তাদের নকআউট রাউন্ডের ভাগ্য ফেরাতে পারে কিনা সেটিই হবে দেখার বিষয়।
