স্টিভেন স্পিলবার্গের বিখ্যাত সাই-ফাই ড্রামা ‘এ. আই. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ মুক্তি পেয়েছিল ২০০১ সালের ২৯ জুন। সে হিসেবে দুই দশক পূর্ণ হলো সিনেমাটির।
ছবির গল্প ছিল অ্যানড্রয়েড প্রোগ্রামে চালিত রোবোট ডেভিডকে ঘিরে। যে শর্তহীন ভালোবাসা নিয়ে মা’কে খুঁজে বেড়ায়। এ চরিত্রে অভিনয় করেছিল জোয়েল ওসমেন্ট। ১৩ বছরের সেই বালকের বয়স এখন ৩৩ বছর।
হলিউড রিপোর্টারকে এ অভিনেতা জানান, সিনেমাটির কাজ যখন শুরু হয় তার বয়স ১১ বছর, সিক্স গ্রেডের শিক্ষার্থী তিনি। এ বয়সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজ করে, তার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে হয়েছে।
ছবির গল্প হাজার বছর কেটে গেলেও ডেভিডকে একটি লক্ষ্যেই দেখা যায়, মায়ের ভালোবাসার অনুসন্ধান। রোবোট হয়ে মানুষের ভালোবাসা কেড়ে নেওয়ার গল্প তার জন্য কঠিন ছিল বলেই জানান জোয়েল।
১৯৯৯ সালে যখন ‘হ্যারি পটার’ ও ‘এ. আই.’-এর মধ্যে কোন সিনেমাটি বানাবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না স্পিলবার্গ, তখন জোয়েলের সঙ্গে প্রথম বৈঠক হয় নির্মাতার।
জোয়েলের বেড়ে ওঠাও স্পিলবার্গের ছবি দেখে। ফলে প্রিয় নির্মাতার সঙ্গে ছবি করা নিয়ে ছিল উত্তেজনা।
তার মনে পড়ে, সেই বৈঠকে স্পিলবার্গ বলেছিলেন, আমরা যা তৈরি করে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব কী হবে— সেটা নিয়েই বোঝাপড়া এ ছবির। অভিনেতার বয়সের হিসেবে এটা খুবই ভারি চিন্তা হলেও এটা ছিল দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা।
সেই আলোচনায় বিখ্যাত নির্মাতা স্ট্যাননলি কুবরিকের প্রসঙ্গও আসে। যিনি ছিলেন স্পিলবার্গের বন্ধু ও ‘এ. আই.’ নির্মাণের কথা ছিল তারই। ১৯৯৯ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর ছবিটি নির্মাণ করেন স্টিভেন স্পিলবার্গ।
জোয়েল মনে করেন, কুবরিক ও স্পিলবার্গের যৌথ ভাবনা বহন করেছেন তিনি।
ব্রায়ান অলডিসের ১৯৬৯ সালের ছোট গল্প ‘সুপারটয়স লাস্ট অল সামার লং’-এর অনুকরণ নির্মিত হয় ‘এ. আই.’। আরও অভিনয় করেছিলেন জুড ল, ফ্রান্সিস ও’কনর, ব্রেন্ডান গ্লিসন ও উইলিয়াম হার্ট প্রমুখ। ১৯৭০ এর দশকে ছবির জন্য গল্পের স্বত্ব কিনে নেন স্ট্যানলি কুবরিক। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে আটকে যান। এ ছাড়া ডেভিড চরিত্রের উপযুক্ত কাউকে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ ছিল তার। ১৯৯৫ সালে স্পিলবার্গকে প্রজেক্টটি হস্তান্তর করেন স্টানলি। তবে সিনেমাটি দেখে যেতে পারেননি।
ওই সময়ের নিরিখে ১০ কোটি ডলারের বিশাল বাজেটে ছবিটি নির্মিত হয়, আয় করে সাড়ে ২৩ কোটি ডলার। এ ছাড়া একাধিক আসরে মনোনয়ন ও পুরস্কার লাভ করে। স্থান করে নেয় সেরা সাই-ফাই ছবির একাধিক তালিকায়।
