ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেগা প্রকল্পের অধীনে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছে না শহরবাসী। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ শহরের বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে। অলিগলির রাস্তাঘাটে হাঁটু পানিতে ডুবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানি উঠে পড়ে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। ফলে সৃষ্টি হয় চরম জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি।
সোমবার (২৮ জুন) মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিতে নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ৫ বছর মেয়াদি ‘তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’র অধীনে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উঁচুকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুনে শেষ হবে। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে নগরীতে সর্বমোট ৪.১ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেন, প্রায় ২৮ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন ও প্রায় ৫৫ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের অধীনে নগরীর মিন্টু কলেজ রেল ক্রসিং থেকে বিপিন পার্ক পর্যন্ত, স্টেশন রোড থেকে থানার ঘাট, কাঁচিঝুলি মোড় থেকে কলেজ রোড, স্বদেশি বাজার থেকে ওল্ড পুলিশ ক্লাব রোডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আন্ডারগ্রাউন্ড পাইপ ড্রেন নির্মাণ করা হয়। এতে নগরীর কয়েকটি এলাকার জলাবদ্ধতার কিছুটা সমাধান হলেও এখনো ভোগান্তিতে রয়েছে অন্তত ১২ থেকে ১৫টি এলাকার বাসিন্দারা।
নগরীর নতুন বাজার রেল ক্রসিং এলাকার বাসিন্দা রাসেল হোসেন জানায়, ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় তাদের এলাকা। অনেক বাসাবাড়িতেই এখন হাঁটু পানি জমে গেছে। নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
শুধু নগরীর নতুন বাজার রেল ক্রসিং এলাকার বাসিন্দারা নয়, বৃষ্টিতে নগরীর বাঘমারা, সেহড়া, চামড়াগুদাম, ব্রাহ্মপল্লী, কেওয়াটখালি, চরপাড়ার কপিক্ষেত, আউটার স্টেডিয়াম, মাসকান্দা, নয়াপাড়া, বলাশপুরসহ অন্তত ১২ থেকে ১৫টি এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
নগরীর আউটার স্টেডিয়াম এলাকার বাসিন্দা অ্যাড. মাসুম-উল-আলম বলেন, নগরীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। তবে এর সুফল আমরা সঠিকভাবে পাচ্ছি না। এখনো বৃষ্টিতে আমাদের এলাকায় অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে, যা মরে যেতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু জানান, নগরীর পানি নিষ্কাশন খালগুলো দখল ও ভরাট হয়ে গেছে, ফলে নগরীর কিছু কিছু এলাকার জলাবদ্ধতা এখনো পুরোপুরি নিরসন সম্ভব হচ্ছে না। নগরীর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে খালগুলোকে দখলমুক্ত করে অতি দ্রুত দুর্ভোগ কমাতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
