দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়কের ওপর পুলিশের উপস্থিতিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিমের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
বুধবার বিকেলে খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে চরনকালী মন্দিরের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক ধীমান ঘোষ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে অভিযুক্ত রেজাউল করিম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
এদিকে ধীমান ঘোষের ওপর হামলা প্রতিবাদে উপজেলার সকল মণ্ডপে পূজার কার্যক্রম বন্ধ করে কালো পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা কমিটির নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এদিন পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বাইরে বের হওয়া মাত্র ধীমান ঘোষের ওপর রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা করে। হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন- লিটন, সাজ্জাদ, সবুজ, চন্দ্র দীপ, মির্জা নান্না, আসাদ, আসাদ-২, হারুন, রিফাত।
পরে ধীমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার মাথায় ২টি সেলাই পড়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন হামলার সময় খানসামা থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল।
এ ঘটনার পর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুবুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু হাতেম, খানসামা থানার ওসি শেখ কামাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিকেলে পুলিশের সামনে ধীমান ঘোষের ওপর হামলা করেছে ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রেজাউল করিম। আমি ওসিকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু ওসি আমার কথায় কোন গুরুত্ব দেয় নাই। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জেলার সকল মণ্ডপের পূজার কার্যক্রম বন্ধ করে কালো পতাকা উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে পরবর্তীতে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
এ ব্যাপারে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কামাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
