সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত সোনাগাজীর ইউএনও, ফেনীতে শনাক্তের হার ৩১.৭৩

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ১১:১৭ পিএম

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এম জহিরুল হায়াত ও তার স্ত্রী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তারা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে করোনায় দুজন মারা গেছেন।

ইউএনও ও তার স্ত্রীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বৃহস্পতিবার রাতে নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ ল্যাব থেকে নিশ্চিত করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, এক দিনে উপজেলার ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭ জনের শরীরের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইউএনও, তার স্ত্রী ও তাদের বাসার এক নারী রয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউএনও এ এম জহিরুল হায়াত বলেন, গত শনিবার থেকে হঠাৎ করে তিনিসহ পরিবারের তিনজনের জ্বর অনুভূত হয়। তাদের শরীর ও গলা ব্যথাও শুরু হয়। পরে বুধবার করোনা পরীক্ষার জন্য তিনি ও তার স্ত্রীসহ তিনজন নমুনা দেন। তিনজনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা সদরে সরকারি বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওষুধ খাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত সোনাগাজী উপজেলায় ১ হাজার ৬৩৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮২ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এখন পর্যন্ত উপজেলায় এক নারীসহ ১৩ জন করোনায় মারা গেছেন। সুস্থ হয়েছেন ৪১৯ জন।

এদিকে ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে করোনায় দুজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২০৮ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৭৩ ভাগ। নতুন শনাক্ত ৬৬ জনের মধ্যে সদরে ৫১ জন, পরশুরামে ১০, ছাগলনাইয়ায় ০, সোনাগাজীতে ০, দাগনভূঞা ১, ফুলগাজীতে ৪ জন। সব মিলিয়ে জেলায় এ পর্যšত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪ হাজার ৫শ ৭৮।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত হয়ে সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া এলাকার দুজন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে। এই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৩৮৩৪ জন।

সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস-ছালেহীন জানান, ফেনীতে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। করোনার ভয়াবহতা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদাসীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই করোনার নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধে মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা পালন করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত