টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী তালুকদারের বিরুদ্ধে সড়কের ৩০টি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
কর্তনকৃত গাছের বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকার বেশি বলে জানা গেছে। প্রায় ৩০ বছর পূর্বে সামাজিক বনায়নের আওতায় কয়েক জন কৃষক সুবিধাভোগী হিসেবে গাছগুলো রোপণ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রয়াত এম. হোসেন আলীর উদ্যোগে সামাজিক বনায়নের জন্য কয়েকজন সুবিধাভোগী কৃষক পারখী, আমজানী, মাইজবাড়ী ও বর্গাবাজার সেতু পর্যন্ত দেড় কি.মি. সড়কের দুই পাশে গাছ রোপণ করেন।
সামাজিক বনায়নের আওতায় অংশীদারিত্বের চুক্তিমূলে সড়কের দুই পাশে মেহগনি, আকাশমনি ও ইউক্লিপ্টাস গাছ লাগানো হয়। রাস্তার দুই পাশের জমির মালিকরা গাছগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করতে থাকেন।
সম্প্রতি ৩০টি গাছ চেয়ারম্যান কেটে নেওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে ওই সকল কৃষকদের মাঝে।
এ বিষয়য়ে আজিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আরও জানা যায়, পারখী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করছেন।
এছাড়া সমাজিক বনায়নের অংশীদার রাস্তার পাশের জমির মালিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কাছে নিয়োজিত গরিব মানুষদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
স্থানীয় কৃষক মুসলিম উদ্দিন বলেন, গাছগুলোর ডালপালা ইতিমধ্যেই বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া গাছগুলো চিড়াই করার জন্য পারখী বাজার সংলগ্ন এমদাদের "স " মিলে রাখা আছে।
এ ব্যাপারে আজিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। কিন্তু প্রশাসক কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে পারখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ঘর নির্মাণ কাজের জন্য ১৬/১৭টি গাছ কাটা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে রেজ্যলুশন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা তানজিন অন্তরা বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। করোনায় লকডাউন চলায় খবর নিতে পারিনি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
