নবাবের উচ্চতা ৬ ফুট, আর ১০ ফুট লম্বা এবং ‘উজিরের উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি ও ৬ ফুট লম্বা। চার বছর ধরে তাদের লালনপালন করছেন হাফিজুর রহমান শেখ ও আছিয়া বেগম দম্পতি।
‘নবাব’ ও ‘উজির’ তাদের খামারের প্রধান আকর্ষণ। এ ছাড়াও তাদের খামারে রয়েছে আরো ১০টি গরু।
এই দম্পতি কোরবানি উপলক্ষে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন ৩৪ মণ ওজনের নবাব ও ১৬ মণ ওজনের ‘উজির’কে।
নবাবের দাম হেঁকেছেন ১৬ লাখ টাকা আর উজিরের দাম হাঁকানো হচ্ছে ৪ লাখ টাকা।
ইতিমধ্যে ‘নবাব’ ও ‘উজিরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয়ায় প্রতিদিন ভিড় করছেন ক্রেতারা ও দর্শনার্থীরা।
পারিবারিক ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ব্যক্তি উদ্যোগে নিজ বাড়ি মাদারীপুরের রাজৈরের শাখারপাড়ে গড়ে তুলেন ‘‘নুসাইবা ডেইরি ফার্ম’’ নামের গরুর খামার।
আসছে কোরবানির হাট ধরতে খামারে পালন করা হয়েছে ১০টি ষাঁড়-গরু। এর মধ্যে বৃহৎ আকৃতির নবাবকে তারা লালনপালন করছেন ৪ বছর ধরে এবং উজিরকে ২ বছর ধরে। এ দুটি ষাঁড়ের জন্য প্রতিদিন খাবার লাগে ২৫ কেজির বেশি।
প্রতিদিন ৪ বেলা নবাব ও উজিরের খাবারের পেছনে খরচ হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। তাদের যত্নে বেড়েছে খামারের শ্রমিকদেরও ব্যস্ততা। খামার মালিকের পক্ষ থেকে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে বিক্রির জন্য। আসতে শুরু করেছেন ক্রেতারাও। প্রতিদিন দেখতে আসছেন শত শত দর্শনার্থী।
দর্শনার্থী আরিফুর রহমান বলেন, আমি মাদারীপুর সদর থেকে এসেছি এখানে গরু দেখার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবাব এবং উজির এর ছবি দেখেছি। তাই কৌতুহলী হয়েই বাস্তবে দেখতে এলাম। এত বড় গরু আমি সামনাসামনি কখনো দেখিনি।
ক্রেতা হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, আমরা প্রতি বছরই কোরবানি করে থাকি। এ বছরও আশা আছে কোরবানি করার। আমি এখানে এসে দাম জানলাম নবাব নামের গরুটির। ১৬ লক্ষ টাকা দাম চাওয়া হয়েছে। আমি এখান থেকে বাড়ি যাওয়ার পর পারিবারিকভাবে আলোচনা করবো। তারপর সিদ্ধান্ত নেব।
খামারের কর্মচারী সোহেল জানান, প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা গরু ঘর পরিষ্কার কারা হয়। দিনে গরুগুলোকে ৪ বার খাবার দেয়া হয়। আমারা সাধারণত খৈল, ভূষি কাঁচা ঘাষ ও খড় কুটা দেয়া হয়। এর সাথে রুচি বর্ধক কিছু ঔষধ খাওয়নো হয়।
খামার মালিক হাফিজুর রহমান শেখের স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, আমার গরু পালতে খুব ভালো লাগে। আমাদের খামারে লোক রাখা আছে, তারপরেও আমি নিজে গিয়ে মাঝে মাঝে দেখি। আমাদের খামারের গরু দেখতে প্রতিদিন লোকজন আসছে।
খামার মালিক হাফিজুর রহমান শেখ জানান, ৪ বছর আগে এক লাখ ১৮ হাজার টাকায় নবাব ও ৮০ হাজার টাকা দিয়ে উজিরকে কিনি। তাদের লাননপালনে ব্যাংক ঋণ নিতে হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। এখন বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। আশা রাখি ভালো দামেই বিক্রি করতে পারবো।’
