খুলনায় যথাসময় চিকিৎসা না নেওয়ায় মৃত্যু বাড়ছে

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০২:৪১ এএম

খুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় মোট ৭৪ হাজার ৭৮০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৬৮৯ জন। চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্ত হওয়ার পর যথাসময়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন না রোগীরা। এ ছাড়া করোনা শনাক্তদের সংস্পর্শে থাকা স্বজনরাও সংক্রমণ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব বিষয়ে অসচেতনতার কারণেই হাসপাতালগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, শরীরে উপসর্গ দেখা দিলেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত কারণে অনেকের মৃত্যু হয়। এছাড়া অনেকের ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ হয়। এমনকি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমণ ঘটে। এক্ষেত্রে দ্রুত রোগীর মৃত্যু হয়।

চিকিৎসকরা জানান, জ্বর-সর্দি-কাশিকে অনেকে সাধারণ বিষয় হিসেবে ধরে নিচ্ছেন। তাছাড়া করোনা পরীক্ষায় অনেকের ভয় রয়েছে। কারণ তারা মনে করছেন, শনাক্ত হলে ওই বাড়ির লোকদের এড়িয়ে চলা হবে। লাল পতাকা দিয়ে বাড়ি চিহ্নিত করা হবে। তাদের বাড়িতে কেউ যাবে না। এসব ভেবে যথাসময়ে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন না। খুলনার সরকারি-বেসরকারি চারটি হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চারশ করোনা রোগী থাকছেন। তাদের একজনের সঙ্গে একাধিক স্বজন থাকছেন; যারা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আসা-যাওয়া করছেন। অবাধে হাটবাজারসহ সব জায়গায় যাচ্ছেন। করোনা রোগীর সংস্পর্শে থাকার পরেও তারা আইসোলেশনে থাকছেন না। নেই কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের ব্যবস্থা, নেই নজরদারি। যে কারণে হু হু করে সংক্রমণ বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যু।

খুলনা সদর হাসপাতালে করোনায় ভর্তি রোগীর স্বজন হাসান আহমেদ বলেন, বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থেকে মাকে নিয়ে এসেছি। সঙ্গে বড় ভাই ও বোন রয়েছে। রোগীর কখন কী প্রয়োজন হয়। তাই ঝুঁকি থাকলেও আসতে হচ্ছে। মায়ের গায়ে তো আর অন্য কেউ হাত দেবে না। যা করার আমাদের করতে হবে।

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী রাশেদ খাঁন বলেন, হাসপাতালগুলোতে সম্পূর্ণভাবে রোগীর স্বজনদের প্রবেশ নিষেধ। তবে অনেকে জোর করে করোনা ইউনিটে প্রবেশ করে। আমাদের সেভাবে কোনো জনবল বা প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই।

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, খুলনায় করোনার দ্রুত সংক্রমণশীল ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের অনেকেই মনে করছেন তার সাধারণ সর্দি-কাশি জ্বর হয়েছে।  হয়তো শেষ মুহূর্তে অবস্থা খারাপ হলে হয়তো হাসপাতালে আসে। তাদের বেশিরভাগই মারা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করতে পারলেই মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মুনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, হাসপাতালগুলোতে যেন রোগীর স্বজনরা অবাধে ঘোরাঘুরি করতে না পারেন- সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি, করোনা অক্রান্ত রোগীর পাশে কোনো স্বজন থাকবে না। এই নির্দেশ কেউ না মানলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা বলেন, আমরা কঠোরভাবে নিষেধ করছি। কেন করোনা ইউনিটে দর্শনার্থী বা স্বজনরা প্রবেশ করতে পারবে না। প্রয়োজনে আমরা তাদের ফোন করব। কিন্তু অনেকে আবেগে এই শর্ত মানছে না। তাছাড়া সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন যদি কেউ সচেতন না হয়- তাহলে তো সংক্রমণ বাড়বে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত