স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নেতৃত্বে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২১, ০৯:১৭ পিএম

টাঙ্গাইলে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। 

জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার আকুর টাকুর পাড়ার হাউজিং মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাসুদ গুরুতর আহত হন। পরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন। 

মামলার অভিযোগে জানা যায়, মাসুদ তার নিজ বাসা থেকে বের হয়ে একাই টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে আকুর টাকুর পাড়ায় হাউজিং মাঠ এলাকায় পৌঁছালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মীর্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল এবং তার ছেলে মির্জা সিয়াম আনোয়ার বিশালসহ আরো অনেকে মোটরসাইকেল গতিরোধ করে। পরে মীর্জা আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে তার ছেলেসহ পাঁচ-ছয়জন প্রথমে মাসুদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। মাসুদ নিষেধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল ঘুষি এবং লাঠি দিয়ে মারেন। এ ছাড়া মির্জা সিয়াম আনোয়ার বিশালের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য মাসুদের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। তারা  মাসুদের কাছে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয় এবং মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।

মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, পরে মাসুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা মাসুদকে উদ্দেশ্য করে বলে ‘পরবর্তী সুযোগ পেলে আরো মারধর করা হবে এবং হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে।’ পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাসুদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাতেই চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো তিন থেকে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। 

মামলার আসামিরা হলেন, জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মীর্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল ও  তার ছেলে মির্জা সিয়াম আনোয়ার বিশাল, মো. রাফি এবং মো. রাকিব । 

এ ব্যাপারে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, ছিনতাইকারী ও মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মীর্জা আনোয়ার হোসেনের ছেলেসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, এ-সংক্রান্ত একটি নিউজ গত বছরের ১ মে প্রকাশ করা হয়। এর জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মীর্জা আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে আমাকে হত্যার চেষ্টা এবং মারধর করা হয়। পরে আমি স্থানীয়দের সহযোগিতায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে রাতেই থানায় মামলা দায়ের করি। আমি এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি করছি। 

এ মামলার আইও টাঙ্গাইল সদর থানায় এসআই মোরাদুজ্জামান বলেন, থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েক জায়গায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়েছে। 

সাংবাদিক মাসুদের ওপর হামলার ঘটনায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলাসহ কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা এ ঘটনায় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন। 

তবে এ অভিযোগ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মীর্জা আনোয়ার হোসেন বাবুলকে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত