নতুন স্বপ্ন নিয়ে অলিম্পিকে যাত্রা ক্রীড়াবিদদের

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২১, ০১:০৯ এএম

‘নতুন স্বপ্নে অলিম্পিক যাত্রা’। পাঁচতারা হোটেলের সুবিশাল সভাকক্ষের বিশাল মঞ্চের পেছনে ব্যানারে বড় করে লেখা। জাপানের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে মঞ্চে উপবিষ্ট বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের তিন কর্মকর্তা শোনালেন আশার বাণী। আসন্ন টোকিও অলিম্পিকে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে তারা দেখাচ্ছেন নতুন স্বপ্ন। কী সেই স্বপ্ন? মুখে পদকের কথা না বললেও তাদের হৃদয়ে জেগেছে সেই আশা। যদিও বাস্তবতা পুরোপুরি উল্টো। সেই ১৯৮৪ সাল থেকে আজ অবধি বাংলাদেশের অলিম্পিক অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারপরও প্রথম কোনো অলিম্পিকে যাত্রার আগে বিওএ আশার ডালি সাজিয়ে বসেছে। আশার সলতেটা জ্বালিয়ে রেখেছেন অলিম্পিকে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আর্চার রোমান সানা। আশা আরেক আর্চার দিয়া সিদ্দিকী ও শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকীকে ঘিরেও। বিওএ’র কর্তাদের বিশ্বাস, দিনটা নিজেদের করতে পারলে যে কোনো কিছুই সম্ভব এই তিনজনের পক্ষে। রোমান, দিয়া ও বাকী টোকিও’র উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন শুক্রবার। এছাড়া ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত সাঁতারু আরিফুল ইসলাম ১৯ জুলাই ও লন্ডন থেকে জোনায়না যাবেন ২৫ জুলাই। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টার জহির রায়হান যাবেন ২৫ জুলাই।

আরিফুল, জোনায়না ও জহির- এই তিনের কাছে চাওয়া শুধুই নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেটা হলেই খুশি কর্তারা। বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা লিখিত বক্তব্য পাঠের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন অংশগ্রহণকারী সব ক্রীড়াবিদের কাছে- ‘বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা টোকিও-২০২০ তে অংশগ্রহণ করছে জেনে আমি খুবই আনন্দিত। কভিড-১৯ মহামারীর এই কঠিন সময়ে আমাদের ক্রীড়াবিদরা দৃঢ় মনোবল নিয়ে লড়াই করবে এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে। আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর টোকিও-২০২০ তে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলের সব ক্রীড়াবিদকে শুভ কামনা জানাচ্ছি এবং সাফল্য কামনা করছি।’ বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন ও বিওএ’র সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন রোমান, দিয়া ও বাকীকে নিয়ে শুনিয়েছেন তার আশার কথা, ‘অলিম্পিক অনেক বড় আসর। এখান থেকে পদকের প্রত্যাশা করে ক্রীড়াবিদদের চাপে ফেলতে চাই না। এর আগেও আমরা অলিম্পিকে গিয়েছি। এবারেরটা পুরোপুরি ভিন্ন। আমরা চেষ্টা করেছি বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে যারা ভালো করছে তাদের দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিং নিশ্চিত করা। তারা শুধু অলিম্পিকে যাবে, হাতে পতাকা নিয়ে হাঁটবে, এটাই এবারের একমাত্র লক্ষ্য নয়। রোমান  সানা সরাসরি কোয়ালিফাই করায় আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত। দিয়াও খুব ভালো আর্চার। এছাড়া বাকীকে নিয়ে সবসময়ই আশা থাকে। আমাদের বিশ্বাস তারা ভালো একটা রেজাল্ট করতে পারবে। এবারই আমাদের ভালো একটা সম্ভাবনা আছে। আশা করি, তারা এমন কিছু একটা করবে, যাতে আমরা গর্ববোধ করতে পারি।’অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়েছিলেন রোমান ও বাকী। তারাও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ‘প্রতিদিন কঠোর অনুশীলন হচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচগুলো হয় যেভাবে, সেভাবে আলাদা অনুশীলনের একটা ব্যবস্থা হয়েছে। ওয়ার্ড কাপ স্টেজ ২ ৩ এ আমাদের ফলাফল ভালো ছিল। সেটাই আমাকে আশা দেখাচ্ছে। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার’Ñ জানালেন রোমান। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও ভালো কিছু করতে চান বাকী, ‘প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে। আসলে বিষয়গুলো নির্ভর করে ওই দিনের পারফরম্যান্সের ওপর।’

ক্রীড়াবিদদের শুভ কামনা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও, ‘যদি তারা সর্বোচ্চটুকু দিতে পারে, উজাড় করে দিতে পারে, তাহলে দেশের জন্য মাইলকফলক আনতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। এ মুহূর্তে সুস্থ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি তারা সুস্থ থেকে সেরাটা উজাড় করে দিতে পারবে।’

করোনা মহামারীর মধ্যেও বিশাল এই ক্রীড়াযজ্ঞ আয়োজন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও অলিম্পিকের ৩২তম সংস্করণ আয়োজনে বদ্ধপরিকর জাপান। বিশ্বকে চমকে দেওয়ার মতো একটা আসরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। একই সঙ্গে টোকিওতেই বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রথম পদকের স্বাদ পাবে- এমন প্রত্যাশা তার কণ্ঠে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত