লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়েকে ২৭৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। হারারেতে তিন ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ২৭৬ রান করেছে টাইগাররা।
ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে কোনো রান তুলতে না পারা টাইগাররা পরের ওভারের প্রথম বলে উইকেট বিসর্জন দেয়। ব্লেসিং মুজারাবানিকে স্কয়ার-কাট করতে গিয়ে ওপেনার তামিম ইকবাল বন্দী হন রেগিস চাকাবার হাতে। ৭ বল খেলে শূন্য হাতে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক।
সেই সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়লেন তামিম। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ ম্যাচে ডাক মারলেন তিনি। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে টপকে এই রেকর্ড গড়লেন তামিম। ওয়ানডেতে ম্যাশের ডাক ৩৩।
তামিম ফেরার পর সাকিব আল হাসান ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম বলে চার মেরে দলীয় রানের সূচনা করেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে যেন দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়ছে না দেশ সেরা অলরাউন্ডারের।
ব্যক্তিগত ১৯ রানে ব্লেসিং মুজারাবানির দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাকিব। দুঃসময়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুন (১৯)। দলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও (৫)।
দলের দুঃসময়ে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান লিটন ও মাহমুদউল্লাহ। দ্রুত ৪ উইকেট হারানোর পর এই দুজনের ব্যাটে লড়াকু পুঁজির স্বপ্ন দেখতে থাকে বাংলাদেশ। লিটন-মাহমুদউল্লাহ জুটি ভাঙে লুক জংওয়ের বলে। ৫২ বলে এক ছক্কায় ৩৩ রানে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। ফেরার আগে লিটনের সঙ্গে ১০৩ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন তিনি। এর আগে রায়ান বার্লের করা ২৮তম ওভারের শেষ বলে চার মেরে ফিফটি উদ্যাপন করেন লিটন।
এরপর আফিফ হোসেনের সঙ্গ নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি উদযাপন করেন লিটন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এর আগের সিরিজেও দুটি সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন তিনি। সিলেটে তিন ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই ডানহাতি ওপেনার। লিটন ফেরেন সেঞ্চুরির পরপরই। তার ১১৪ বলে ১০২ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮ চারে।
লিটনের ফেরার পর মেহেদী হাসান মিরাজকে (২৬) নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রাখেন আফিফ (৪৫)। দুজনই ফেরেন জংওয়ের বলে। এরপর আউট হন তাসকিন আহমেদ (১)। ৮ রানে সাইফউদ্দীন আহমেদ ও শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম।
জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন জংওয়ে। ২টি করে উইকেট ভাগাভাগি করেছেন মুজারাবানি ও রিচার্ড এনগারাভা।
