পতনউষারে করোনার প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ০৭:৫৮ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনউষার ইউনিয়নে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সরকারের দেওয়া বিশেষ প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রিপন ইসলাম ময়নুল ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সায়েক আহমদ লিখিত আবেদনে এ অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের বিশেষ প্রণোদনা হিসাবে প্রায় দেড় মাস আগে প্রথম কিস্তিতে পতনউষার ইউনিয়নে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। দরিদ্র লোকদের মধ্যে পাঁচ শ টাকা করে বিতরণ করার কথা।

অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দের সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে চাপাচাপি করলে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তিন শ লোকের মধ্যে ৫০০ টাকা হারে বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট দু শ লোকের মধ্যে টাকা বিতরণ না করে ইউপি চেয়ারম্যান তার নিজের কাছে রক্ষিত রেখেছেন। দ্বিতীয় কিস্তির আরো ৬৬ হাজার টাকা এবং ১ মেট্রিক টন চালও যথাযথভাবে বরাদ্দ হয়নি অভিযোগ তুলে দুই ইউপি সদস্য ইউএনও বরাবর লিখিত দেন।

অভিযোগকারী পতনউষার ইউনিয়নের সদস্য রিপন ইসলাম ময়নুল ও সায়েক আহমদ বলেন, ‘দেড় মাস আগে আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ আসার পরও আমাদের জানানো হয়নি। ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে অনেক চাপাচাপির পর আমাদের (ইউপি সদস্য) মাধ্যমে ৩০০ লোকের মধ্যে ৫০০ টাকা হারে বিতরণ করা হয়। অবশিষ্ট ২০০ জনের টাকা ও চাল চেয়ারম্যান নিজের কাছে রক্ষিত রাখেন। ট্যাগ অফিসার ছাড়া এগুলো বিতরণ ও মাস্টার রোল কীভাবে হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে’। তারা বলেন, ‘পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় আরো ৬৬ হাজার টাকা ও ১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ আসলেও সেগুলো বিতরণের উদ্যোগ নেই। আমরা জানতে চাইলে বলা হয়, পরিবহন খাতের জন্য এগুলো রাখা হয়েছে। শুধু করোনাকালীন সরকারের বিশেষ বরাদ্ধই নয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এলজিএসপি, এডিবি, টিআর, কাবিখা প্রকল্পসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম রয়েছে। আমরা ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে কোনো তথ্য দেওয়া হয় না এবং বিগত প্রায় ৪ মাস যাবত ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভাও আহ্বান করা হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে পতনউষার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তওফিক আহমদ বাবু সাংবাদিকদের জানান, ২০০ লোকের মধ্যেও টাকা বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৬৬ হাজার টাকা ও ১ মেট্রিক টন চাল এমপি সাহেবের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হবে।

পতনউষার ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা পল্লী জীবিকায়ন কর্মকর্তা মোর্শেদা মেরিনা বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে একজন ইউপি সদস্য ছাড়া বাকি সদস্যদের উপস্থিতিতে ৫০০ টাকা করে যেগুলো বিতরণ হয়েছে সেগুলোর মাস্টার রোলে স্বাক্ষর করেছি। তবে চেয়ারম্যান যে ২০০ জনের জন্য বরাদ্দ রেখেছেন সে তালিকার মাস্টার রোলে স্বাক্ষর হয়নি।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশেকুল হক বলেন, ‘দুজন ইউপি সদস্যের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদের প্রণোদনার প্রায় আড়াই লাখ টাকা দ্রুত বিতরণ করার কথা। পতনউষারের চেয়ারম্যানকে শনিবারই সব ত্রাণ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত