লকডাউন শিথিলের পর বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২১, ১১:৫৬ পিএম

লকডাউন শিথিল করার গতকাল শুক্রবারের বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক ছিল না। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতেও দেখা যায়নি। শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে, কোরবানি ঈদের তিন দিন বাকি থাকতে ঈদকেন্দ্রিক নিত্যপণ্যের বেচাকেনাও বেড়েছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। তেলের দাম কিছুটা বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও তরিতরকারি।

উত্তর বাড্ডার বাজার গিয়ে দেখা যায়, প্রতিকেজি বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা, আলু ২২ থেকে ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা, মোটা চাল ৩৮ টাকা, বাসমতি চাল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, পোলার চাল ১০৫ থেকে ১২০ টাকা, মসুরের ডাল ১১০ টাকা, মুড়ি ৭০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা প্রতিটি, কচুর মুখী ৩০ টাকা, কচুর লতি ২৫ টাকা আটি, পটল ৪৫ টাকা, করলা দেশি ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৪০ টাকা, শসা দেশি ৬০ টাকা ও হাইব্রিড ৪০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

গত সপ্তাহের তুলনায় মাছের বাজার ছিল মোটামুটি স্থিতিশীল। বাজারে জোগান ভালো ছিল বলে এ সপ্তাহে কোন মাছের দাম বাড়েনি বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়, ছোট রুই কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২০০ টাকা, পাঙাশ বড় ২২০ টাকা কেজি, ছোট পাঙাশ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ টাকা, শিং ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে সপ্তাহের বাজার করতে আসা আব্দুল হাকিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের পরপর মাছের দাম বেড়ে যায়। তাই ঈদের আগে একটু বেশি করে মাছ কিনে রাখতে চেয়েছি। মাছের দাম বাড়েনি বলে স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

হামিদা বেগম নামে একজন ক্রেতা বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম খুব একটা বাড়েনি। বাজারে সবকিছুর চাহিদা অনুযায়ী জোগান থাকার জন্য দামে তারতম্য হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া গরুর মাংস ৫৮০ থেকে ৫৯০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১২৫ টাকা কেজি, পাকিস্তানি মুরগি ২৩০ থেকে ২৩৫ টাকা কেজি, ডিম ৩৫ টাকা হালি, লবণ প্রকার ভেদে ২৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, চিনি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে যা গত কয়েক দিন ধরে একই দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই কদিনে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, মাংসসহ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

মসলার বাজারে দাম কিছুটা পড়তির দিকে বলে জানান ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ই। ঈদের আগে আর দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলেও জানান মসলা ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, এখন কাঁচামালের দাম বাড়ছে না। লকডাউন চলাকালীন সময়েও দাম তেমনটা বাড়েনি। কারণ সাপ্লাই ভালো ছিল। লকডাউনের আগে আগে ক্রেতাদের চাপ বেশি থাকলে একটু দাম বেড়ে যায়, তবে এখন মোটামুটি সবকিছুর দাম স্থিতিশীল আছে। এর মধ্যে দাম বাড়া বা কমার সম্ভাবনা নাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত