আগের ম্যাচে হেরে তেতে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজের শেষ ম্যাচে তাই রেকর্ডে-রেকর্ডে প্রতিশোধ নিল তারা। আয়ারল্যান্ডের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা ধসিয়ে সিরিজে সমতা আনল প্রোটিয়ারা। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭০ রানে জেতায় সিরিজ ১-১ ড্র হয়েছে। প্রোটিয়াদের হয়ে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন জানেমান মালান ও কুইন্টন ডি কক। তাতে ওপেনিং জুটির রেকর্ডের পাশাপাশি দুই ব্যাটসম্যানই একাধিক রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন। তাদের ব্যাটে ৪ উইকেটে ৩৪৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে প্রোটিয়ারা। জবাবে আয়ারল্যান্ড ২৭৬ রানে থামে। তবে সিমি সিং সেঞ্চুরি করে নিজে রেকর্ড গড়েছেন।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের ভুল শুধরে এ ম্যাচে নতুন রূপে ফিরে আসে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ওপেনারের ব্যাটেই রানবন্যায় ভাসে। তাদের থামানোর কোনো পথই যেন পাচ্ছিল না আইরিশরা। দুর্বার গতিতে ছুটতে থাকা মালান-ডি কক ২০০০ সালের পর এই প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেটে দুইশো রানের উদ্বোধনী জুটির কীর্তি গড়েন। আর ২০১৯ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম শতরানের জুটিও আসে তাদের ব্যাটেই। ২২৫ রানে ডি ককের বিদায়ে থামে এই জুটি। ৯১ বলে ১১ চার ও ৫ ছক্কায় ১২০ করেন ডি কক। এই সেঞ্চুরিতে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সপ্তম উইকেটরক্ষক হিসেবে ১০ হাজার রানের কোটা পার করেন ডি কক।
সঙ্গী ফিরলেও ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন মালান। ১৬৯ বলে ১৬ চার ও ৬ ছক্কায় করেন ক্যারিয়ারসেরা ১৭৭ রান। সাত ম্যাচের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করলেন মালান। সাত ম্যাচে তার ক্যারিয়ার রান ৪৮৩। এই সংখ্যক ম্যাচ খেলে ওয়ানডেতে এত রান করা প্রথম ক্রিকেটার এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। তার আগে ৬ ইনিংসে ৪০০ ছাড়ানো একমাত্র ব্যাটসম্যান ছিলেন ইনজামাম উল হক। এ ছাড়া মালানের ১৭৭ দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওয়ানডেতে চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস।
আয়ারল্যান্ডের সামনে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৮ দলের একটির বিপক্ষে প্রথম সিরিজে জয়ের সুযোগ ছিল। সেজন্য সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হতো তাদের। ৩৪৭ রানে চাপা পড়ায় আইরিশদের জন্য যা সত্যিই কঠিন ছিল। এর মধ্যে ২০ ওভারের ভেতর ৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ শেষে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা। দলটিকে শেষদিকে একটু আনন্দ এনে দেন সিমি সিং। ৯১ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকা এই অলরাউন্ডার ক্যারিয়ারসেরা স্কোরে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিলেন। ওয়ানডেতে আট নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান এখন সিমি।
