পশুর হাটে নেই স্বাস্থ্যবিধি, ক্রেতা কম, দাম চড়া

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২১, ১১:৩৭ পিএম

রাজধানীতে ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হওয়া কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সচেতন নয়। তবে ঈদের দুদিন বাকি থাকলেও হাটে নেই ক্রেতার চাপ। অন্যদিকে বিক্রেতাদের বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে চড়া দাম হাঁকানোর অভিযোগ তুলেছেন ক্রেতারা।

রবিবার আফতাবনগর ও মেরাদিয়া পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ গরু বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। অন্যদিকে ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের অনেকেই মাস্ক পরলেও তার স্থান হয়েছে থুতনিতে।

এদিন বেলা দেড়টায় মেয়র আতিকুল ইসলামের পশুর হাট পরিদর্শনে আসলে আফতাবনগরে সিটি করপোরেশন এবং ইজারাদারদের থেকে প্রচারণার পাশাপাশি মাস্ক বিতরণ করতে দেখা গিয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা।

চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজধানীর আফতাবনগর পশুর হাটে ৪০টি গরু নিয়ে এসেছেন মো. জামাত আলী। তিনি বলেন, ‘গরুর যে দাম কয় মনডা লয় যাইগে। আবার মনে চায় শহরের লোকগে গেরামে পাঠাতি হবে গরু কিনা শিকবার লাই’। গেল বুধবার থেকে এখন পর্যন্ত তার বিক্রি হয়েছে মাত্র দুটি গরু। তিনি থুতনিতে মাস্ক ঝুলিয়ে বসেছিলেন গরুর হাটে ।

তবে বিক্রেতাদের প্রতি চড়া দাম হাঁকানোর অভিযোগ তুলেছে গরু কিনতে আসা মালিবাগের বাসিন্দা এল এন উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ইচ্ছে করে গরুর দাম বাড়িয়ে বলছে তারা । শেষদিনে বেশি দামে বিক্রির আশায় এসব করছে বিক্রেতারা।

আফতাবনগর হাটে গরু কিনতে আসা খিলগাঁও বাসিন্দা মো. জুয়েল মিয়া বলেন, হাট শুরুর দিন থেকে আসতেছি, দিনে দিনে দাম কমলেও কেনার দামে আসেনি এখনো, তাই কেনা যাচ্ছে না। শেষের দিকে ঠিকই কম দামেই ছাড়বে এরা ।

জামালপুর থেকে আসা গরু বিক্রেতা মাঈনুল হক দুদুর কথাতেও মিলল তার প্রমাণ। তিনি বলেন, এইবার হাটে গরু কম, চান রাইতের আগে আশা করি সব শেষ হইব। আগের বারের থাইকা এবার ভালো দাম না পাইলেও বাইচা থাহন যাইব।

দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে দুই হাটে আসা একাধিক গরু বিক্রেতা এবং গরু কিনতে আসা একাধিক ক্রেতার বক্তব্য অনুযায়ী গরু বিক্রির সংখ্যা কম জানালেও মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার আওরঙ্গজেব টিটু বলছেন বিক্রির পরিমাণ বেশ ভালো। ঈদের আগের রাতেই সব গরু বিক্রি শেষ হয়ে যাবে। তবে আফতাব নগর হাটের ইজারাদার ওমর শরিফ দিপু বলেন, করোনার কারণে বিক্রি খুবই কম। বিক্রি হচ্ছে না বললেই চলে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে সিটি মেয়রের হুঁশিয়ারি থাকলে কেবল প্রচারণাতেই আটকে রয়েছে হাটগুলো। এ নিয়ে আফতাবনগর পশুর হাটের ইজারাদার ওমর শরিফ দিপু বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি। মাস্ক, সেনিটাইজার বিতরণও করছি। মানুষ না পড়লে কি করা যাবে? তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।

অন্যদিকে মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার আওরঙ্গজেব টিটু বলেন, “আল্লাহ আছেন তিনিই দেখবেন। আমাদের লোকজন প্রচারণা চালাচ্ছে। এইটা কঠিন মানানো যেখানে ৩-৪দিন বিক্রেতাদের কেউ কেউ গোসলই দিতে পারে নাই।”

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত