রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে মারধর ও হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় চার ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ ছিল। এতে করে নতুন রোগী ও স্বজনরা পড়েন বিপাকে।
মৃত জাহেদা বেগমের ছেলে জাহিদ মিয়া অভিযোগ করেন, দুপুর ১২টার দিকে তার মাকে নিয়ে জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান। সেখানকার চিকিৎসক তাকে দ্রুত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে তাৎক্ষণিকভাবে তার মাকে নিয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মায়ের ইলেকট্রোলাইটসহ তিনটি পরীক্ষা করাতে বলেন।
আরও পড়ুন... খুলনা বিভাগে করোনায় আরও ৫২ জনের মৃত্যু
জাহিদ বলেন, পরীক্ষা করার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন তাকে ভর্তি না করে পরদিন রক্ত দিতে বলেন চিকিৎসক। এর কিছুক্ষণ পর চিকিৎসার অভাবে তার মা মারা যান।
গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ ও গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর থেকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ছিলেন চিকিৎসক সুজন পাল।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি গ্রামের জাহেদা বেগম (৫৫) নামের এক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনেরা। একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে জাহেদার ছেলে জাহিদ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
এ সময় তারা জরুরি বিভাগের চেয়ার-টেবিল ও জানালা ভাঙচুর করেন। চিকিৎসককেও গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তারা চিকিৎসক সুজন পালকে মারধর করেন। এ সময় আরেক চিকিৎসক নুরে জান্নাত এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক তাহেরা আকতার মনি গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এতে বলা হয়, সন্ধ্যায় ১০-১২ জনের একটি দল জরুরি বিভাগের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। চিকিৎসক সুজন পাল ও নুরে জান্নাতকে মারধর করা হয়। তারা নুরে জান্নাতকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন।
আহত চিকিৎসক সুজন পাল জানান, ওই রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাকে মৃত ঘোষণার পরই রোগীর স্বজনেরা অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটায়।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহফুজার রহমান বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
