হুমায়ূন আহমেদের লেখা অসংখ্য চরিত্র ফারুক আহমেদের অভিনয়ে জীবন্ত হয়ে আছে। এ জুটির নাটক এখনো দেখা হয় ইউটিউবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই শেয়ার হয় ছোট ছোট ক্লিপ।
অভিনেতা সোমবার জানিয়েছেন নিজের এক আফসোসের কথা। এদিন হুমায়ূনের মৃত্যুবার্ষিকী। ফারুকের আক্ষেপও নির্মাতা-লেখককে ঘিরে।
হুমায়ূনের মৃত্যুর সময় পাশে না থাকাটাই ফারুক দুঃখের কারণ। তবে নিউইয়র্কের সেই মসজিদ দর্শন করে এসেছেন, যেখানে হুমায়ূনের শেষ গোসল ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ফারুক আহমেদ ফেইসবুকে লেখেন—
“হুমায়ূন স্যারের মৃত্যু দিবস।।
শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন স্যার ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক শহরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় আমি তাঁর পাশে থাকতে পারিনি। সে কারণে আমার আফসোসের সীমা নেই। যারা স্যারের পাশে ছিলেন তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় শুনেছি কোথায় স্যারকে শেষ গোসল দেওয়া হয়, কোথায় কাফন পড়ানো হয়, কোথায় তাঁর প্রথম জানাজা হয় ইত্যাদি। কিন্তু তাতেও আমার আফসোস বিন্দু পরিমাণ কমেনি। কেবলই মনে হতো, আহা! মৃত্যুর সময় যদি স্যারের পাশে থাকতে পারতাম!”
“২০১৪ সালে আমি সপরিবারে আমেরিকা যাই। গিয়ে উঠি নিউইয়র্ক শহরের জ্যামাইকায় আমার শ্যালিকা বাবু আর ভায়রা ভাই সেলিমের বাসায়। সেলিমের কাছ থেকে জানতে পারি তাদের বাসার পাশে মসজিদ আল মামুরে হুমায়ূন স্যারের মৃত্যুর পর তাঁর গোসল ও কাফনের কাপড় পড়ানো হয় এবং তাঁর প্রথম জানাজাও সেখানে হয়। সেই জানাজায় সেলিমও ছিলেন। আমি সেলিমকে বললাম, সেই মসজিদে আমি যাবো। কী এক উত্তেজনায় সারা রাত আমি ঘুমাতে পারলাম না। পরের দিন সকালে আমি সেলিমকে নিয়ে মসজিদ আল মামুরের সামনে গেলাম। বাংলাদেশ থেকে এসেছি এই খবর শুনে মসজিদের ভিতর থেকে এক মওলানা সাহেব বের হয়ে এলেন। আমার সাথে কুশল বিনিময় করলেন। তিনি জানালেন, হুমায়ূন স্যারের জানাজায় তিনিও ছিলেন। আমি ঘুরে ঘুরে মসজিদের বিভিন্ন স্থান দেখলাম এবং প্রচুর ছবি তুললাম। এখানে তার থেকে কয়েকটি ছবি দেওয়া হলো।”
লেখার সঙ্গে তিনটি ছবি যোগ করেন ফারুক। প্রথম ছবিতে মসজিদের সেই স্থানটি সেখানে মৃত্যুর পর হুমায়ূনকে গোসল দেওয়া হয়। একটি ছবিতে ফারুককে দেখা যায় নির্মাতার প্রথম জানাজার স্থানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে। অন্যটিতে ফারুকের সঙ্গে রয়েছেন মসজিদের ইমাম।
