প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহার দিন বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে বসেছিল কোরবানির মাংস বিক্রির হাট। বুধবার শহরের বাজার স্টেশন, বড়পুল, কাজিপুর রাস্তার মোড়, চৌরাস্তা মোড় ও কাঠেরপুল এলাকা ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে।
পেশাদার মাংস ব্যবসায়ীরা নয়, এ হাট বসিয়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। যারা সারা দিন বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাংস পেয়েছেন, পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি মাংস বিক্রি করে নগদ টাকা উপার্জন করছেন এ হাটে। বিক্রেতা হিসেবে শিশুদেরও দেখা গেছে।
মৌসুমী এ হাটে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।
হাটে মাংসের ক্রেতাও ছিলেন শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ। যাদের অধিকাংশই রিকশা চালক, ভ্যান চালক, ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা ও দিনমজুর।
মৌসুমী কসাইরা জানান, সিরাজগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাড়িতে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। তারা অর্থের বিনিময়ে পশুর মাংস কাটা-বাছার কাজ করেছেন। কাজ শেষে যে মাংস দিয়েছে, তার পরিমাণ একেবারে কম নয়। পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী মাংস রেখে বাড়তি মাংস বিক্রি করেছেন।
বেশ কয়েকজন কসাইয়ের ভাষ্য, তারা শহরের বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাজের উদ্দেশ্যে এসেছেন। মাংস বাড়ি পর্যন্ত নিতে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে। এ কারণে শহরে বিক্রি করে নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি যাবেন। এতে কিছু বাড়তি আয়ও হবে।
জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী গ্রামের মাংস বিক্রেতা আসাদুল ইসলাম বলেন, কোরবানির গরু কাটাকাটির কাজ করি। এতে যে মাংস পেয়েছি তা বিক্রি করে দিয়ে নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি যাবো।
অপরদিকে পৌর এলাকার মাহমুদপুর গ্রামের বাসের হেলপার সুমন শেখ বলেন, করোনার মধ্যে কাজ নেই। অনেক কষ্টে আছি। বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৬-৭ কেজি মাংস পেয়েছি। ৪ কেজি ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।
আয়েশা খাতুন ও আবুল হোসেন দম্পতি বলেন, আমরা দুজন বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৮ কেজি মাংস পেয়েছি। স্টেশনে এসে ৭ কেজি ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করলাম। বাকি ১ কেজি রান্না করে খাবো। টাকাগুলো গ্রামে মেয়ে থাকে ওর কাছে পাঠিয়ে দেবো। মেয়ের ঘরে একটা কন্যা সন্তান আছে। নাতিকে জামা-কাপড় কিনে দেবো।
মাংস ক্রেতা রনি শেখ বলেন, করোনার জন্য এবার কোরবানি দিতে পারিনি। এ জন্য বাজার স্টেশন এলাকা থেকে মাংস কিনলাম। এখানে দাম কম। তিনি আরও বলেন, কোরবানি দিতে না পারলেও ঈদের দিনে কোরবানির মাংস রান্না না করলে ভালো লাগে না। বাচ্চারাও মন খারাপ করে। এ কারণে মাংস কিনতে এসেছি। কসাইয়ের দোকানে যেসব মাংস বিক্রি করা হয় তাতে পানি দিয়ে ওজন বাড়ানো হয়। আবার গরুটা অসুস্থ কিংবা বয়স্ক কি-না তাও আমরা জানি না। কিন্তু কোরবানির মাংস নিশ্চিন্তে খেতে পারি।
এদিন বিকেলে সরেজমিনে বাজার স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই রিকশা বা পায়ে হেঁটে পলিথিন বা ব্যাগে করে এ হাটে মাংস বিক্রি করতে নিয়ে আসছেন। অনেকেই ভাগ সাজিয়ে বসে আছেন। কেউ বা ওজন করে দিচ্ছেন। যে ওজন দিচ্ছেন সে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে নিচ্ছেন। ওজনকারী আব্দুস সালাম শেখ বলেন, দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৩৬ কেজি মাংস ওজন দিয়েছি। এতে ১৮০ টাকা পেয়েছি। এতে আমার বাড়তি আয় হওয়ায় আমিও খুব খুশি।
