ঈদের পর করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন রাজধানীর প্রবেশমুখ সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যাত্রীরা এখনো ফিরছেন রাজধানীসহ শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায়। তাদেরকে ছাড় দিতে গিয়ে অনেকটা ঢিলেঢালা ভাবেই চলছে কঠোর লকডাউন।
শুক্রবার সরেজমিনে সাভার-আশুলিয়া ঘুরে দেখা যায়, সড়ক-মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সকাল থেকেই গণপরিবহন ছাড়াও চলাচল করছে রিকশা। বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বেরিয়েছে মানুষ। তবে লকডাউনের কারণে পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা এবং ভ্যানে করেও আসছে অনেকেই। কেউ কেউ আবার পরিবহন না পেয়ে হেঁটে হেঁটেও যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এদিকে, ঢিলেঢালা লকডাউনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিনা কারণে পাড়া মহল্লার বিভিন্ন মোড়ে আড্ডার পাশাপাশি রাস্তায় ঘুরতে দেখা গেছে অনেককে। এ ছাড়া ঈদের ছুটিতে রাস্তাঘাট অপেক্ষাকৃত ফাঁকা থাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে সবান্ধব ঘোরাঘুরি করতেও দেখা গেছে।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা মোজ্জামেল জানালেন, তিনি একটি তৈরি পোশাক কারখানার সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করেন। মা অসুস্থ থাকায় গত ১৯ জুলাই তাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং আজকে বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরছেন। আবদুল্লাহপুর যাওয়ার কথা থাকলেও লকডাউনের কারণে তাকে গাজীপুর চৌরাস্তায় নামিয়ে দেয় বাস। সেখান থেকে পায়ে হেঁটেই পৌঁছান গন্তব্যে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ডগুলোতে গ্রাম থেকে আসা লোকজনের জটলা দেখা গেছে। গাড়ি থেকে নেমে তারা রিকশা-ভ্যানে করে বাসায় ফিরছেন। কেউবা আবার কিছু না পেয়ে পায়ে হেঁটেও বাড়ি রওনা হয়েছেন।
ভ্যান চালক তৌহিদুল বাইপাইল থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছেন মাথাপিছু পঞ্চাশ টাকা ভাড়ায়। চাকরির জন্য বরিশালের মঠবাড়িয়া থেকে আশুলিয়ায় ফিরেছেন বাদশা শরিফ নামে এক ব্যক্তি। গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি।
বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের আশুলিয়া পুলিশ চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্ট) ফজলুল হক বলেন, সকাল ৬ টা থেকে আমরা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছি। যাদের জরুরি কাজ রয়েছে তাদের সাথে কথা বলে ছেড়ে দিচ্ছি এবং যারা বিনা কারণে বের হয়েছে তাদের গাড়ি ঘুরিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া কিছু লোক এখনো গ্রাম থেকে ছুটি কাটিয়ে ফিরছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গন্তব্যে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য সকাল থেকেই মাঠে রয়েছি। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছে। তবে বিধিনিষেধের প্রথম দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে ধীরে ধীরে তারা কঠোর হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আমি নিজেও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। এর মধ্যে বাইপাইলে একটি হোটেল খোলা রেখায় তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার, পাইকারি আড়তসহ রাস্তায় টহলের পাশাপাশি জনসাধারণকে কঠোর লকডাউন মেনে চলার জন্য মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। বিনা অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়া ঠেকাতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
