লকডাউনেও আ.লীগ নেতার জলকুটিরে দর্শনার্থীদের ভিড়

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ১০:২৬ এএম

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে ঘোষিত কঠোর লকডাউনের প্রথম দিনেই সরকারি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পর্যটকদের জন্য জলকুটির খোলা রেখেছে একজন আওয়ামী লীগ নেতা।

এতে করে বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জলকুটিরে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছে শত শত মানুষ। শুধুমাত্র ব্যবসায়ীক মুনাফার জন্য জলকুটিরটি খোলা রাখায় দর্শনার্থীদের সমাগম থেকে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি এলাকায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান তার গাঙচিল ফাস্টফুড এন্ড রেস্টুরেন্ট নামক জলকুটির খোলা রেখেছেন।

নামে ফাস্টফুড ও রেস্টুরেন্ট হলেও মুলত এটি হচ্ছে জলকুটির। যেখানে এক সাথে বসে লোকজন সময় পার করেন। এই জলকুটির খোলা রাখাকে কেন্দ্র করে আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজন এখানে জড়ো হতে শুরু করে।

এ সময় কেউবা জলকুটিরে বসে ফাস্টফুড আইটেম অর্ডার দিয়ে বসে গল্প করছেন। গাদাগাদি করে মানুষজন ঢুকছেন আবার বের হচ্ছেন।

অধিক লোক সমাগমের ফলে জল কুটিরে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বেশিরভাগ লোকজনের মুখেই মাস্ক ছিল না, বাধাগ্রস্ত সামাজিক দূরত্ব। 

স্থানীয় বাইদগাঁও এলাকা থেকে শিশু বাচ্চা নিয়ে বেড়াতে আসা অঞ্জনা বেগম বলেন, ঈদের মধ্যে আমরাতো আর দূরে কোথাও যেতে পারি না। এই জলকুটির আমাদের বাড়ি থেকে কাছে হওয়ার কারণে এখানে এসেছি। করোনার ঝুঁকি থাকার পরও বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি।

জিরানী এলাকা থেকে মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ফরহাদ হোসেন বলেন, মেয়েকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি এখানে শত শত মানুষ গাদাগাদি করে চলাচল করছে। অধিকাংশরই মুখে মাস্ক নেই। তাই বাধ্য হয়েই মেয়েকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

জানতে চাইলে গাঙচিল জলকুটিরের মালিক শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান বলেন, বিকেল বেলা অনেক মানুষ ঘুরতে আসে তাই একটু খুলেছিলাম। কিন্তু আপনাদের জন্য তার আর হলো না, এখনই বন্ধ করে দিচ্ছি।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজাহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খোজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত