শরণার্থী সানদা আলদাসের অলিম্পিক স্বপ্নপূরণ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২১, ১১:৫২ পিএম

সানদা আলদাস। ৩১ বছরের তিন সন্তানের জননী। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ তাকে রিফিউজি বানিয়েছে। আর দশজনের মতো হলে হয়তো জীবনযুদ্ধেই তিনি হারিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু যাননি। বরং সব লড়াইকে অগ্রযাত্রা আর অর্জনে বদলে নিয়েছেন তিনি। অংশ নিয়েছেন টোকিও অলিম্পিকের জুডোতে।

যদিও সার্বিয়ার মারিকা পেরিজিকের কাছে হেরে গেছেন তিনি। ১০ বছরের ছোট প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হারটা প্রত্যাশিত ছিল। সার্বিয়ান জুডোকা দুইবারের ইউরোপিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন। দুই বার জুডোর সিনিয়র গ্র্যান্ডসø্যামের ব্রোঞ্জ জিতেছেন। সহজেই হারিয়েছেন আলদাসকে। তবে এটাও বলা যায় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির শরণার্থী দলের হয়ে অলিম্পিকে অংশ নিয়ে অন্য মাত্রার সাফল্য দেখিয়েছেন আলদাস। 

প্রস্তুতির গল্প শুনলেই বুঝতে পারবেন কতটা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন আলদাস। স্বামীর সঙ্গে দামেস্কে বাস করতেন আলদাস। কিন্তু সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের বীভৎসতায় টিকতে না পেরে ২০১৫ সালে স্বামী ফাদিয়া দারিশ ও এক সন্তানকে নিয়ে নেদারল্যান্ডস পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সিরিয়া থেকে ছিন্নমূল হয়ে সেখানে যাওয়া এরপর শরণার্থী শিবিরে বাস করাটা সহজ ছিল না। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির জটিলতা একা হাতে সামলেছেন। এরমধ্যে অনুশীলনও জারি রেখেছিলেন। এটা সম্ভব হয়েছিল তার স্বামীর জন্য। কারণ ফাদিয়া নিজেই স্ত্রীর জুডো কোচিং করিয়েছেন। ছয়মাস শরণার্থী শিবিরে থেকে কষ্ট করেছেন। এরপর অন্য জীবন। এক বছর আগে এক সাক্ষাৎকারে আলদাস বলেন, ‘প্রথম দিকে আমি হালকা দৌড় আর অনুশীলনে সময় কাটাতাম। মানসিক স্বাস্থ্য ধরে রাখাটা চ্যালেঞ্জ ছিল তখন। মনকে বোঝাতাম থাকার জন্য শরণার্থী শিবিরের চেয়ে ভালো জায়গা জুটে যাবে।’

ছয় মাস শিবিরে কাটানোর পর পরিবারসহ চলে যান আমস্টারডামে। সেখানেই তার আরও দুই সন্তানের জন্ম। শুধু তাই নয়, ডাচদের মাটিতেই বেড়ে উঠেছে আলদাসের অলিম্পিকে অংশগ্রহণের স্বপ্ন। পরিবার থিতু হওয়ার পরই কঠোর অনুশীলন শুরু করেন। ক্রমশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মতো ফিটও হয়ে  ওঠেন। এরপর নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আইওসির শরণার্থী দলে। টোকিও অলিম্পিকে খেলার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পর আলদাস বলেছিলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমরা অলিম্পিক খেলার স্বপ্ন দেখেছি। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। একটা দায়বদ্ধতার কথাও মনে পড়ছে। আমরা কেবল খেলাধুলার প্রতিনিধিত্ব করছি না। সারা দুনিয়ার শরণার্থীদের প্রতিনিধি আমরা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত