ইউপি সদস্যদের দ্বন্দ্বে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হল তিন হাজার পরিবার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০৭:০৭ পিএম

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের জন্য ঈদের আগে দরিদ্রদের জন্য ভিজিএফ এবং জিআর বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৩টি ইউনিয়ন তা ঈদের আগেই বিতরণ করে। কিন্তু দিঘলকান্দি ইউনিয়নে ইউপি সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার কারণে ঈদ আনন্দ হতে বঞ্চিত হয়েছে প্রায় তিন হাজার পরিবার।

এখন পর্যন্ত দুস্থদের ভাগ্যে জোটেনি সেই ভিজিএফের চাল এবং জিআর এর টাকা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে মোট ৩০ হাজার ২৫টি পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় তিনশ মেট্রিক টন চাল। এছাড়াও ৯ হাজার আট'শ পরিবারের মাঝে ৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারের বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ও পাঁচশ টাকা দেওয়ার কথা।

দিঘলকান্দি ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীর সংখ্যা ২ হাজার ৩২৯ জন এবং জিআর সাত'শ জন। ১৩টি ইউনিয়ন তাদের এ কাজ সম্পন্ন করলেও ওই ইউনিয়নে এখনও বিতরণ হয়নি।

জানা যায়, চলতি বছর ১৮ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম।

পূর্বে থেকে গঠন করা ছিল না প্যানেল চেয়ারম্যান। পরিষদের নিয়মিত কাজ ফেলে সদস্যদের মধ্যে শুরু হয় প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার প্রতিযোগিতা।

চলতি মাসের ১২ তারিখ প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ইউপি সদস্যদের মধ্যে ভোটগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি।

সেখানে সমান সমান ভোট পান ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী ও ছালামত হোসেন খান। পরে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী হন ছালামত।

তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়। ফলে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও টাকা বিতরণ বাদ দিয়ে দলাদলি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা।

চাল ও টাকা বিতরণ বিষয়ে ছালামত হোসেন খান বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনও আমাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি, তাই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারিনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হক বলেন, যথাসময়ে এই ইউনিয়নের নামে চাল ও টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও তারা তা উত্তোলন করেনি এবং বিতরণও করেননি।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জহুরা বেগম জানান, ইউপি সদস্যরা অসম্মতি প্রকাশ করায় ঈদের আগে টাকা ও চাল উত্তোলন এবং বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, চেয়ারম্যান মারা যাওয়ায় দাপ্তরিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে ঈদের আগে চাল ও টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই এই সমস্যা সমাধান করা হবে বলেও তিনি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত