দুর্গম রেমাক্রি এবং তিন্দুতে আগে টিকা পরে নাম নিবন্ধন

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২১, ০৭:২০ পিএম

মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের টিকা দান নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পাহাড়ি কয়েকটি ইউনিয়নের টিকাদান কেন্দ্রে আসতে অনেক গ্রামবাসীর কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে রেমাক্রি এবং তিন্দুতে ভোটার আইডি কার্ড দেখে টিকা দেওয়ার পর গ্রহীতার নাম নিবন্ধনের পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গণি ওসমানি জানান, দুর্গম এলাকা হওয়ায় থানচি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথমে একটি ইউনিয়নে তিন দিনের টিকাদান কার্যক্রম চলবে। এরপর উপজেলার বাকি তিনটি ইউনিয়নের লোকজনদের টিকা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, ৭ থেকে ৯ অগাস্ট থানচির সীমান্তবর্তী বড়মদক, ছোটমদক ও রেমাক্রি বাজার এলাকায় টিকা দেওয়া হবে। এরপর উপজেলার বাকি তিনটি ইউনিয়নে ১০ থেকে ১২ অগাস্ট টিকা দেয়া হবে।

থানচি উপজেলার রেমাক্রি এবং তিন্দু এ দুই ইউনিয়ন পুরোপুরি মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন এলাকা। এ কারণে ওয়ার্ডভিত্তিক করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি সদস্যদের মাধ্যমে গত সোমবার থেকেই টিকার ব্যাপারে প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ দুই ইউনিয়নে লোকজনদের শুধু ভোটার আইডি কার্ড দেখে আগে টিকা দেওয়া হবে। পরে উপজেলা সদরে এসে তাদের নাম নিবন্ধন করা হবে বলে জানান ইউএনও আতাউল গণি ওসমানি।

রেমাক্রি ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা বলেন, তার ইউনিয়নে ওয়ার্ড মেম্বার, গ্রাম পুলিশ, কারবারি এবং হেডম্যানের মাধ্যমে সবাইকে টিকাদান সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। দুর্গম এলাকা আর এখন বর্ষা মৌসুম এর কারণে কোনো কোনো এলাকা থেকে স্পটে হেঁটে আসতে প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা সময় লাগবে। যাতায়াতের ভোগান্তি তো রয়েছেই। এছাড়া করোনা টিকা সম্পর্কে দুর্গম এলাকা বাসিন্দাদের এখনও ভয়ভীতি এবং অসচেততা রয়েছে।

রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়ামিন হোসেন জানান, প্রত্যেক ইউনিয়নে পুরাতন ওয়ার্ড নামে তিনটি ওয়ার্ড থাকে। ৭ অগাস্ট থেকে সে-ই পুরাতন একটি ওয়ার্ড ধরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। স্থানীয়দের সুবিধার জন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডে কয়েকটি বুথ থাকবে। যাতে লোকজনের কম কষ্ট হয়। কেওক্রাডং পাহাড়ের মতো জায়গায় আমাদের হেঁটে যেতে হবে। স্পটে ভোটার আইডি কার্ড দেখে টিকা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে আমরা তাদের রেজিস্ট্রেশন করব।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের টিকা নিতে আগ্রহী করে তোলার জন্য পাড়াপ্রধান কারবারি এবং মৌজাপ্রধান হেডম্যানদেরও যুক্ত করে সবাইকে টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমা জানান, টিকা দেওয়ার বিষয়ে এলাকার সবাইকে এখন থেকেই ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। কিছু এলাকা দুর্গম এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সেখানে খবর পৌঁছতে একটু সময় লাগে। এজন্য আগেভাগে খবর দিতে হচ্ছে।

জেলা সিভলি সার্জন ডা. অংসুইপ্রু মারমা বলেন, “দুর্গম এলাকার ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম সমতলের মত হবে না। এটা বিশেষ ব্যবস্থায় আয়োজন করতে হবে। এজন্য প্রতিটি উপজেলায় টিকাদান সম্পর্কে গত সোমবার থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত