অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটা জয়ের জন্য ছিল কত দিনের অপেক্ষা! অথচ সেই দলটাকেই পর পর দুই ম্যাচে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। সেটাও পর পর দুই রাতে।
বুধবার পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে অস্ট্রেলিয়া। প্রতিপক্ষকে ১২২ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল দলটি। যা তাড়া করতে নেমে ৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
সেখান থেকে আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নুরুল হাসান সোহানের অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানে ৮ বল হাতে থাকতেই আসে দারুণ এক জয়।
সুবাদে বাংলাদেশ সিরিজে এগিয়ে গেল ২-০ তে। মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৩ রানে জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
এদিন ৩১ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংস খেলে জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়েন আফিফ। ৫টি চারের সঙ্গে হাঁকিয়েছেন ১ ছক্কা। নুরুল হাসান ২১ বলে ৩ চারে অপরাজিত ২২ রান করেন।
এ ছাড়া সাকিব আল হাসান ১৭ বলে ২৬ ও মেহেদি ২৪ বলে ২৩ রান করেন।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজলউড, অ্যাস্টন অ্যাগার, অ্যাডাম জাম্পা ও অ্যান্ড্রু টাই।
আগের ম্যাচের মতো টস জিতেই শুরু অস্ট্রেলিয়ার। তবে প্রথম ম্যাচটিতে ১৩২ রান তাড়ায় হারতে হয়েছিল। এ কারণেই বোধ হয় এ ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নিল সফরকারীরা। তবে এরপর দলটির ব্যাটিং চিত্র বদলায়নি। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে সেই জড়সড়ই থেকেছে স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নারদের ছাড়াই খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়া।
মেহেদি হাসানের স্পিনে অ্যালেক্স ক্যারি পরাস্ত হওয়ার পর মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন আরেক ওপেনার জস ফিলিপি। এরপর মিচেল মার্শ ও ময়জেস হেনরিকস জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করেছেন। তবে হেনরিককে ফিরিয়ে সাকিব ৫৭ রানের জুটি ভাঙার পর সেভাবে আর ডানা মেলতে পারেনি অজি ব্যাটিং লাইন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১২১ রানে থামে দলটি।
সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেছেন মিচেল মার্শ। ৪২ বলে ৫ চারে এই রান তার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ময়জেস হেনরিকস। ২৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় এই রান করেন তিনি।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষে এদিন সবচেয়ে সফল মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে ২৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আরেক পেসার শরিফুল ২৭ রান খরচায় নিয়েছেন ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদি হাসান। ৪ উইকেট নিয়ে আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নাসুম আহমেদ এদিন ছিলেন উইকেটশূন্য। দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন আফিফ হোসেন।
এই সিরিজের আগে টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের চার দেখায় সব কটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এখন সব মিলে ৬ দেখায় বাংলাদেশের জয় ২, অস্ট্রেলিয়ার ৪। সিরিজ শেষে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় কি-না সেটাই এখন দেখার।
শুক্রবার একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবে দুই দল।
