নরসিংদীর রায়পুরায় টিকা দেওয়ার কথা বলে সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন ডেকে নিয়ে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া পারভীন আক্তার (৩০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার ভোরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে টিকা দেয়ার কথা বলে পারভিন আক্তারকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে তার সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে রাতে রায়পুরা উপজেলার উত্তরবাখর নগর ইউনিয়নের লোচনপুর এলাকায় একটি বাশঁঝাড়ে নিয়ে পেট্রোল ঢেলে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে দেন দেবর ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজন।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে ওই নারীর ছোট ভাই আক্রাম হোসেন বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেছেন। এই ঘটনায় রবিবার সকালে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে রায়পুরা থানার পুলিশ। আগুনে ওই নারীর শরীরের ৭৫ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- রায়পুরার মরজাল এলাকার হাফিজ উদ্দিন মুন্সীর ছেলে আলী হোসেন (৩২) এবং তার ভাগনে ও কাজী আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. শাহরিয়ার (১৮)।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রায়পুরা উপজেলার পাহাড় মরজাল এলাকার মৃত কাজী আলতাব হেসেনের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (৩৬) ও কাজল মিয়ার স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫)।
পুলিশ ও অগ্নিদগ্ধ নারীর পরিবার জানায়, রায়পুরার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের সোবানপুর গ্রামের দানা মিয়ার মেয়ে পারভিন আক্তারের (৩০) সাথে মরজাল এলাকার প্রবাসী জাকির হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১০ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
পারভিন বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকার কারণে প্রায় সময়ই শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারভিন বেগম ও তার সন্তানের ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন করতো।
বছরখানেক আগে পারভিন বেগমের দেবর আলী হোসেন পারভিনের মেয়ের পায়ে দা দিয়ে কোপ দেন। নাতনির পায়ে কোপ দেওয়ার ঘটনায় পারভিনের বাবা দানা মিয়া থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন।
এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মামলা তুলে নিতে পারভিনের উপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তিনি স্বামীর বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়ী সোবানপুরে গিয়ে উঠতে বাধ্য হন।
প্রায় ৮ মাস আগে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। শনিবার দুপুরে টিকা নিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে সন্ধ্যার পর দেবরসহ চারজন তার মুখ বেঁধে লোচনপুর এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের নিচে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে আগুন নেভানোর পর তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
পরে সোমবার ভোরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দেবর আলী হোসেন ও ননদের ছেলে শাহরিয়ারকে আটক করেছে ও বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ নারীর মৃত্যু হয়েছে। পূর্বের মামলাটি এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আজ আদলতে রিমান্ড শুনানি হবে।
