দেশ রূপান্তরের সংবাদের পর অবৈধ ঘের গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২১, ০১:২৪ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানকে সরকারি প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণ বিষয়ে গত ৯ আগস্ট  দৈনিক দেশ রূপান্তরের সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে অভিযান চালিয়ে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়ে সরকারি প্রায় ১০ একর জায়গা দখলমুক্ত করেছে প্রশাসন।

বুধবার সকাল ৯টায় মহেশখালী উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুল রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের কর্মী ও প্রায় ৬০ জন শ্রমিক নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান পরিচালনাকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, হোয়ানকের অমাবইশ্যা মৌজায় সরকারি প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘেরে নির্মাণের খবর পেলে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতা ও বিভাগীয় বন সংরক্ষক এসএম গোলাম মওলার নির্দেশনায়  প্রায় ৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়ে প্রায় ৭-৮ একর জায়গা দখলমুক্ত করি এবং এই কাজে যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত  ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।

সূত্রে জানা যায়, মহেশখালীর হোয়ানকে অমবশ্যা ঘোনা সংলগ্ন প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করেছিল স্থানীয় সিকদার গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। গত জুলাই মাসে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কেটে প্রায় ১০ একর জায়গা দখলমুক্ত করে এবং সিকদার গ্রুপের প্রধান পানিরছড়া এলাকার রশিদের পুত্র মো. সিকদারকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক দুটি মামলা করে বন বিভাগ।

তবে মাস শেষ হতেই বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে শত শত শ্রমিক দিয়ে আবারও বন কেটে চিংড়ি ঘের নির্মাণের অভিযোগ ওঠে ভূমিদস্যু চক্রটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে গত ৯ আগস্ট দেশ রূপান্তরের সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে বন বিভাগের। এরপর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বুধবার সকালে বন-বিভাগ অভিযান চালিয়ে সরকারি প্রায় ১০ একর জায়গা দখল মুক্ত করে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহাফুজুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে হোয়ানকে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করা হয় এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহেশখালীতে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত