সাভারের কাজীপাড়া এলাকায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাতনিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আনতে যাওয়ায় নানা ও মামাকে পানির পাইপের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও ওঠে স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মামলা না করার শর্তে সাদা কাগজে স্বাক্ষর ও স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
পরে স্থানীয়রা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী নানা ও মামাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নানা আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।
নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার খাসেরচর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে মো. আব্দুল মান্নান (৫৮) ও তার ভাগনে শহিদ মোল্লা (৫৩)।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন সাধাপুর কাজীপাড়া গ্রামের বশির মহাজনের ছেলে আবুল আলামের সঙ্গে এক বছর আগে সিঙ্গাইর থানার খাসেরচর গ্রামের মো. আব্দুল মান্নানের নাতনি সোনিয়া আক্তারের (১৯) বিয়ে হয়। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বিকেলে নানা আব্দুল মান্নান ও তার ভাগনে শহীদ মোল্লা সোনিয়াকে দেখতে যান। তখন নাতিন জামাই মো. আবুল কালাম (২৮), তার ভাই মো. সালাম (২৫) ও বাবা বশির মহাজনসহ পরিবারের লোকজন তাদের কালামের খালার বাড়ির একতলা ভবনের ছাদে নিয়ে পানির পাইপের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। পরে তাদের কাছে থাকা ২৬ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন, নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর রাতে তাদের বাড়ির ভেতর নিয়ে জোরপূর্বক দুটি সাদা কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া। তাদের চিৎকার শুনে এলাকাবাসী ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।
নির্যাতনের শিকার আব্দুল মান্নানের ছেলে ফরিদুর রহমান জয় বলেন, প্রায় ১১ মাস আগে তার বোনের মেয়ে সোনিয়া আক্তারের বিয়ে হলেও বিয়ের দেড় মাস পর তার ভাগনিকে অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন মিথ্যা অপবাদ দিতে শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে আমরা ভাগনিকে আমাদের বাড়ি নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু এলাকাবাসীর অনুরোধে ভাগনিকে আবার শশুরবাড়িতে যেতে দিলে তখন থেকে আমার ভাগনিকে আর বাড়িতে আসতে দেয় না। মাঝে মাঝে ফোনে কথা বলার সুযোগ দিত। আমার ভাগনির বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমরাই দেখাশোনা করি। ভাগনি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গত মঙ্গলবার আমার বাবা ও আমার ফুপাতো ভাই আমার ভাগনিকে বাড়ি নিয়ে আসতে ওর শ্বশুরবাড়ি যায়।
তিনি বলেন, এ সময় ভাগনি জামাই কামাল ও তার বাবা বসিরসহ ৮/১০ জন লোকজন বেলা দেড়টার দিকে আমার বাবা ও ভাইকে দোকান থেকে উঠিয়ে নিয়ে দূরে একটি বাড়ির ছাদে পানির ট্যাংকের পাইপে বেঁধে নির্যাতন করে। আমার মামা ও ভাইকে নির্যাতনের একপর্যায়ে আমরা কাবিনের ১০ লাখ টাকা তাদের কাছে দাবি করছি এমন একটি স্বীকারোক্তি আদায় করে আমার বাবা ও ভাইয়ের মুখ থেকে এবং অভিযোগ না করার মর্মে সাদা স্ট্যাম্পে সইও নেয়। অভিযোগ করলে পরবর্তীতে আমার ভাগনিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়। ওই নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও সন্ধ্যায় আমার ভাগনি জামাই কামাল আমার মোবাইল ফোনে পাঠায় এবং বলে ১০ লাখ টাকা দিয়ে বাবা ও ভাইকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, দুই ব্যক্তিকে নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্ত বশির মহাজন ও তার ছেলে আবুল কালামকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।
