‘বলপূর্বক নিখোঁজ’ ৮৬ জনকে আজও পাওয়া যায়নি: এইচআরডাব্লিউ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২১, ০৯:২৮ পিএম

বাংলাদেশে ‘বলপূর্বক নিখোঁজের শিকার’ ৮৬ ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, এগুলোর নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু করা উচিৎ।

২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ১১৫ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ভুক্তভোগী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা ছিলেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছে, প্রতিবেদনটি তৈরি করার সময় তারা দেখেছে , ‘সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে এবং তাদের মত দাবিয়ে রাখতে গুম এবং গুমের হুমকিকে ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকার অবশ্য গুমের ঘটনায় কোনো কর্তৃপক্ষ অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে’।

প্রতিবেদনে সাত ভুক্তভোগীর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে যারা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

যাদের সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তারা হলেন, বিএনপি নেতা আব্দুল কাদের ভূঁইয়া বা মাসুম যিনি ২০১৩ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার মা আয়েশা আলীর দাবি তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির আরেক নেতা নূর হাসান হিরু যাকে ২০১১ সালের ২০ জুন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ৫-৬ জন তুলে নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করে। এর পর থেকে আর তার খোঁজ নেই বলে জানান তার ভাই।

এইচআরডাব্লিউর প্রতিবেদনে ছাত্রশিবির কর্মী মোহাম্মদ রেজাউন হুসাইনের কথাও বলা হয়, যাকে ২০১৬ সালের অগাস্টে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করে। তার মা সেলিনা বেগমের দাবি, এরপর থেকে আর তার খোঁজ মেলেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাজাকে তার আরো কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ হন। তার মায়ের দাবি, পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল, পরে তার বন্ধুদের পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন রাজা। তপন চন্দ্র দাশ নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০১১ সালের ৩ অগাস্ট পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয়ে কয়েকজন আটক করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, যিনি সুইফট কেবল নেটওয়ার্ক নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি ২০১৩ সালের ১১ মে থেকে নিখোঁজ। মীর আহমেদ বিন কাশেম যিনি আরমান নামেও পরিচিত তাকে ২০১৬ সালের ৯ অগাস্ট তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে এইচআরডাব্লিউ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত