বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ফেরি চলাচল বন্ধ ও নদীতে স্রোতের ফলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখে দিয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক, কার্ভাডভ্যান ও অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ অপেক্ষা।
ফেরি চলাচল ব্যাহত হবার ফলে এসব গাড়ির চাপে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৬ শতাধিক যানবাহন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ঢাকামুখীসহ অন্যান্য জেলার ট্রাকগুলো। এসব ট্রাকের জটলার কারণে যাত্রীবাহী বাসগুলোকেও অনেক সময় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল বন্ধ, পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে ব্যাহত হওয়ায় নদী পারের জন্য ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে এ সকল অপেক্ষমাণ পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে নদী পারের জন্য বর্তমান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোটবড় ১৮টি ফেরি চলাচল করছে বলে তারা জানান।
সরেজমিনে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাড়কের নুরু মন্ডলপাড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার কার্ভাডভ্যানসহ অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাকের সিরিয়াল।
গোয়ালন্দ ফেরিঘাট এলাকায় আসা ইকবাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩ দিন আগে খুলনা থেকে রড নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ার জন্য রওনা হয়ে গোয়ালন্দ মোড়ে এসে আটকা পড়েন। আজ ভোরে অনেক কষ্টে ফেরির সিরিয়াল পেয়ে ঘাট এলাকার জন্য রওনা হই কিন্তু এসে দেখি এখানেও ট্রাকের লম্বা লাইন।
তিনি আরও বলেন, খাবার ও টয়লেটের সুব্যবস্থা নেই ঘাট এলাকায় ও গোয়ালন্দ মোড়ে, এর জন্য আমাদের আরও খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।
আরেক ট্রাক চালক নুর মোহাম্মদ বলেন, অনেক ট্রাকচালক অবৈধভাবে সিরিয়াল ভেঙে ঘাটের উদ্দেশ্য রওনা দিচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার জন্য আমাদের ট্রাকের ভাড়া ও আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে একটি ফেরি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ফেরি চলাচল বন্ধ ও স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণে ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
