নিরাপদ পরিবেশে একটি ইলিশ থেকে পাওয়া যাবে ১৬ লাখ ইলিশ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ১০:২৬ এএম

যদি ডিম ছাড়ার পরিপূর্ণ সুযোগ দেওয়া যায় তাহলে একটি মা ইলিশ থেকে লাখ লাখ বাচ্চা পাওয়া যাবে।

ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই গবেষণা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়ামিন হোসেন। সম্প্রতি শেষ হওয়া তার একটি গবেষণা এ তথ্য উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, পদ্মা নদীর ইলিশ নিয়ে গবেষণা করে দেখা গেছে ১৪০০ গ্রামের একটি ইলিশ যদি ডিম দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে প্রায় ১৬ লাখ ইলিশের বাচ্চা হবে। যদি আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করা হয় তাহলে একটি মাত্র ইলিশ থেকে ৭৬ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় হবে।

এ নিয়ে ভয়েস অব আমেরিকা প্রকাশ হয়েছে একটি প্রতিবেদন।

সেখানে বলা হয়, ড. ইয়ামিন ইলিশের সঠিক প্রজনন সময় নির্ধারণ, বংশ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি এবং সংরক্ষণ নিয়ে মূল গবেষণাটি করেছেন। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের আর্থিক সহযোগিতায় টানা দুই বছর ইলিশ সংরক্ষণ নিয়ে একটি প্রজেক্টের আওতায় কাজটি করেছেন তিনি।

বাংলাদেশে ইলিশ আহরণের নিষিদ্ধকালীন সময় পুনর্নির্ধারণ করতে হবে বলেও গবেষণায় জানিয়েছেন ড. ইয়ামিন।

তিনি বলেন, আমরা গবেষণার মাধ্যমে ইলিশ প্রজননের সঠিক সময় চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি। ইলিশের অবস্থান অনুযায়ী অর্থাৎ পদ্মা, যমুনার ক্ষেত্রে মেঘনা, সুরমা, কুশিয়ারার তুলনায় কিছুটা ভিন্নতা, আবার বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন নদীগুলো থেকে মেঘনা পদ্মার কিছুটা ভিন্নতা আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে।

গত বছর ইলিশ আহরণের নিষিদ্ধকাল শুরু হয়েছিল ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু পদ্মায় মা ইলিশ প্রবেশ করেছিল ২০ অক্টোবরের পর। মেঘনার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে সময় শুরুর ৪-৫দিন পর এসেছে মা ইলিশ। আবার নিষিদ্ধকাল শেষ হওয়ার পরও এ সব নদীতে মা ইলিশের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ড. ইয়ামিন বলেন, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, ইলিশ আহরণের নিষিদ্ধকাল শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও মা ইলিশ অর্থাৎ পরিপূর্ণ ডিমে ভরা ইলিশ পদ্মা, মেঘনা, সুরমা, কুশিয়ারায় থেকে গেছে। সুতরাং ইলিশ সম্পদকে রক্ষা করার জন্য আমাদের দেশে যে ২২ দিন ইলিশ আহরণের নিষিদ্ধকাল নির্ধারণ করা হয় এই সময় নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

আরও বলেন, মা ইলিশদের যদি ডিম দেওয়ার পরিপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া যায় তাহলে ১৪০০ গ্রামের একটি ইলিশ থেকে ১৬ লাখ ইলিশের বাচ্চা পাওয়া যাবে। এটি শুধু ইলিশের ক্ষেত্রেই সম্ভব। আমরা পদ্মা নদীর ইলিশ নিয়ে গবেষণা করে এমনটা দেখেছি। আমরা যদি আর্থিক লাভের কথা চিন্তা করি তাহলে একটি মাত্র ইলিশ থেকে ৭৬ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় হবে।

২০২০ সালের জুনে আমাদের ইলিশ গবেষণা প্রকল্পের সমস্ত তথ্য উপাত্ত এবং গবেষণা ফলাফল জমা দিয়েছি। আশা করা যায়, আমাদের গবেষণা ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এবার ইলিশ আহরণের নিষিদ্ধকাল পূর্বনির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ— এমনটা বলেন এ গবেষক।

সম্প্রতি স্কোপাসের জরিপে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত সেরা ৫০ জন গবেষকের তালিকায় প্রথমে থেকে সেরা গবেষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন ফিশারিজ বিভাগের এই অধ্যাপক। তার প্রত্যাশা ‘পুনর্বিন্যস্ত এ নিষিদ্ধ সময়কাল’ দেশের ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করবে। এ ছাড়া সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সমৃদ্ধকরণ এবং দেশের বাওরগুলোতে পুরোনো দেশি মাছ ফিরিয়ে আনাসহ চারটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করছেন ড. ইয়ামিন হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত