কুষ্টিয়ায় বাড়ছে গঙ্গা-পদ্মার পানি, ভাঙছে পাড়

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ০৩:৩৭ পিএম

ফারাক্কা থেকে নেমে আসা গঙ্গা-পদ্মার শাখা প্রশাখায় প্রবাহিত বানের জল উপচে প্লাবিত হচ্ছে জেলার বিস্তৃর্ণ নিম্নাঞ্চল। কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ পয়েন্ট, শিলাইদাহ ও গড়াই নদীর রেলসেতু পয়েন্টে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপ স্কেলে বিপদসীমা ইতিমধ্যে ছুঁই ছুঁই করছে বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া।

শনিবার সকাল ৬টায় হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে পদ্মার পানি মাপ ছিল ১৪ দশমিক ২০ সে.মি. যার বিপদসীমা হল- ১৪ দশমিক ২৫ সে.মি. এবং গড়াই সেতু পয়েন্টে পরিমাপ ছিলো ১২.৪৮ যার বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সে.মি.।

গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে দশমিক ০৩ সে.মি.। পানি বৃদ্ধির এই মাত্রা অব্যাহত থাকলে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। পদ্মার পানি বৃদ্ধির এই ধারা আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাসে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পদ্মা-গড়াইয়ে পানি বৃদ্ধির কারণে একদিকে ইতিমধ্যেই জেলার নিম্নাঞ্চল/চর এলাকার কৃষিজমি এবং লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে নদীর পাড় ভাঙন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক ড. হায়াৎ মাহমুদ জানান, জেলার দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের কিছু নিচু জমিতে পানি উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত খুব উল্লেখযোগ্য কৃষি ফসলহানির কোনো ঘটনা এখনও ঘটেনি। ঠিক কি পরিমাণ জমিতে পানি উঠেছে তার সঠিক পরিমাণ এখনও আমার কাছে এসে পৌঁছেনি। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর হতে নির্বাহী প্রকৌশলী কুষ্টিয়ার দপ্তরে প্রেরিত সতর্কবার্তায় জেলার নদী ভাঙন প্রবণ ২৫টি স্পটকে শনাক্ত করে সেখানে জরুরি সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশনাসহ প্রযোজনীয় জরুরি আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিন।

 

তবে প্লাবন, ভাঙন ও আক্রান্তসহ উপদ্রুত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার যথেষ্ট সক্ষমতা তাদের নেই বলেও জানালেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

শনিবার দুপুরে জেলার ৬টি উপজেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, সব কয়টি উপজেলাতেই নিম্নাঞ্চলের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত এবং কোথাও কোথাও পাড় ভাঙনে শিকার হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সেখানে সাধ্যমতো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে নদীর পাড় ভাঙনের মুখে জেলায় সরকারি-বেসরকারি ও জনপদ ক্ষতির শিকার হওয়া ১৪টি স্পটে জরুরি আপদকালীন পদক্ষেপ হিসেবে ভাঙন ঠেকাতে গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে শুরু করে অদ্যবধি ৪০ হাজারের উপরে বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলানো হয়েছে।

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এসব স্পট হলো- দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি, ফিলিপ নগর ও মরিচা। ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ও রায়টাঘাট। মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া, সদর উপজেলার, শেখ রাসেল কুষ্টিয়া হরিপুর সংযোগ সেতুর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও স্কুল মাদ্রাসা।

কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর ,কোমরভোগ, শিলাইদহ, চাপড়া ও তেবাড়িয়া। খোকসা উপজেলার কালিবাড়ি ও ওসমানপুর আবাসন প্রকল্প।

এছাড়াও স্যাটেলাইট (সিজিআইএস) হতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নদী ভাঙনের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্পট হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে চিহ্নিত হয়েছে হেলালপুর, উসমানপুর, আবেদের ঘাট, কুলদিয়া, ভুড়কা, পুরাতন কুষ্টিয়া, শিমুলিয়া, কমলকান্তি, গনেশপুর, তেবাড়িয়া, এনায়েতপুর, লালপুরসহ প্রায় ২৫টি স্পটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গড়াই নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শেখ রাসেল কুষ্টিয়া হরিপুর সংযোগ সেতুর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঠেকাতে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার উপসহকারী প্রকৌশল মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখানে যে পরিমাণ ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে সেটাকে গুরুত্বসহকারে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালিভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাগ সরবরাহের চরম ঘাটতি রয়েছে। সেকারনে কাজের গতিও কাঙ্খিত মাত্রায় করতে পারছি না। বলতে পারেন টাকা দিয়েও চাহিদামতো জিও ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে না। 

ঠিকাদার হবিবর রহমান বলেন, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হওয়ায় তাৎক্ষণিক এসব জরুরি কাজের বোঝা আমারদের ঘারেই চাপানো। আমরাও করি। কিন্তু সমস্যা হলো প্রতি বছরই এ ধরনের কমবেশি জরুরি কাজ করে দিই ঠিকই কিন্তু এসবের বিল পাইতে আমাদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ বলেন, পদ্মা গড়াইয়ের সব কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিশেষ নজর রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেখানেই সমস্যা সৃষ্টি হবে গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত