চেয়ারম্যানের ভয়ে দেড় মাস অফিসে যান না ইউপি সচিব

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২১, ১১:৪২ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ চৌধুরী বিপ্লবের ভয়ে দেড় মাস ধরে পরিষদে অফিস করছেন না সচিব দীপক চন্দ্র দাস। চেয়ারম্যান কর্তৃক লাঞ্ছিত হওয়ায় নিরাপত্তার অভাবে অফিসে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সচিব। সচিব না থাকায় পরিষদের কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। প্রতিদিন শত শত মানুষ পরিষদে গিয়ে সেবা না পেয়ে ঘুরে আসছেন। সম্প্রতি পরিষদের সামনে সেবাপ্রত্যাশীরা মানববন্ধন করেন।

জানা গেছে, গত ৪ জুলাই চেয়ারম্যান কর্তৃক লাঞ্ছনার শিকার হন ইউপি সচিব দীপক চন্দ্র দাস। একই সঙ্গে সচিবকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে অনুপস্থিত সচিব। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেবা নিতে গিয়ে ফিরে আসছেন।

পরিষদে সেবা না পেয়ে গত ১১ আগস্ট শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন অর্ধশত এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে রাজারামপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফিল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও নাগরিক সনদপত্রসহ সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।

এদিকে, সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ চৌধুরী বিপ্লবের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন ওই পরিষদের পাঁচ সদস্য। চিঠিতে চেয়ারম্যানের দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনা হয়।

ইউপি সচিব দীপক চন্দ্র দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ৪ জুলাই চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমাকে পরিষদে লাঞ্ছিত করে। এরপর রুমে তালা মেরে পরিষদ থেকে আমাকে বের করে দেয়। আমি নিরাপত্তার অভাবে ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছি না।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ চৌধুরী বিপ্লব বলেন, ইউনিয়ন সচিব দীপক চন্দ্র দাস কাউকে না জানিয়ে দেড় মাস ধরে অনুপস্থিত। আমি কয়েকজন মেম্বারের দ্বারা তাকে পরিষদে আসার জন্য বলেছি, কিন্তু তিনি আসেন না।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জানেন। আমি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি যে সচিব ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যানের লোকজনের হাতে হামলার শিকার হতে পারেন।

তিনি আরও জানান, এর আগে চেয়ারম্যানের বিভিন্ন অনিয়ম ও সচিবকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় করা পৃথক দুই তদন্ত কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে। রিপোর্টটি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বরাবরে পাঠিয়ে দিয়েছি। তদন্ত কমিটি চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও সচিবকে লাঞ্ছিতের সত্যতা পেয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত