যৌতুকের জন্য স্বামীকে নির্যাতন: স্ত্রী কারাগারে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২১, ০৯:৫৪ পিএম

চাঁদপুরে স্বামী নূর মোহাম্মদের দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্ত্রী মনি আক্তার মিতুকে (২১) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামি মনি আক্তার কোর্টে হাজির হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কফিল উদ্দিন এ আদেশ দেন।

গত ১৫ জুলাই চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন স্বামী নূর মোহাম্মদ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জুন মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের সঙ্গে একই উপজেলার সুজাতপুর এলাকার দুলাল মিজির মেয়ে মনি আক্তার মিতুর ইসলামি শরীয়া মোতাবেক দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মোহরানা ধার্যপূর্বক বিয়ে হয়। ওই সময় ৫০ হাজার টাকা নগদ ওয়াশিয়াস্তে কাবিন নিবন্ধন হয়। পরবর্তীতে নুর মোহাম্মদ বাকী ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে মিতু তার স্বামীকে বিভিন্ন বাহানায় নগদ অর্থ যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। এক পর্যায়ে তার বাবার ঘর করার জন্য স্বামীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করে নেন। এরপরও দাম্পত্য জীবনে শান্তি আসেনি। যৌতুকের দাবিতে নূর মোহাম্মদকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন মিতু ও তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনা স্থানীয়দের জানালে কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে শালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু কোনো সমাধান আসেনি। বরং মিতু ও তার পরিবারের লোকজন ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং টাকা না দিলে মিতু সংসার করবে না মর্মে ডিভোর্স চান।

অভিযোগে বলা হয়, কোন উপায় না পেয়ে নির্যাতনের শিকার মিতুর স্বামী নূর মোহাম্মদ গত ১৫ জুলাই চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিৎ রানা বলেন, আমার মক্কেল দীর্ঘদিন যাবত যৌতুকের কারণে তার স্ত্রী ও শ্বশুরপক্ষের লোকজনের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছিল। এ ঘটনায় গত ১৫ জুলাই আদালতে যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়। ওই দিনই  আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি মনি আক্তার মিতু ও তার ভাই মেহেদী হাছানের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। বৃহস্পতিবার একই মামলায় মিতু ও তার ভাই মেহেদী স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হলে আদালত মিতুকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। তবে তার ভাই মেহেদীর জামিন মঞ্জুর করে।

মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবদুল আজিজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত