লাঠির আঘাতে মৃত্যুর পর ঘরের বারান্দায় পুঁতে রাখেন মাদকাসক্ত ছেলের লাশ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২১, ০৫:৪১ পিএম

নেত্রকোনায় বাবার লাঠির আঘাতে নেশাগ্রস্ত ছেলে আব্দুল হকের (৩০) মৃত্যু হয়। এরপর লাশ ঘরের বারান্দাতেই পুঁতে রাখেন বাবা। এমন ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কাকৈরগড়া ইউনিয়নে তিতারজান গ্রামে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমজাদ আলী (৬৫) ও মা রাবেয়া খাতুনকে (৫৮) আটক করেছে পুলিশ।

জানা যায়, নিহত আব্দুল হক পরিবারের অন্যান্য ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। অন্যরা ঢাকায় থাকলেও তিনি একা গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। কয়েক দিন আগে তার বাবা-মা গ্রামের বাড়ি আসেন।

রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে মাটি থেকে লাশ উদ্ধার করে বিকেলের দিকে মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। এর আগে শনিবার দিনগত মধ্যরাত ১১টার দিকে নিহতের গ্রামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

কাকৈরগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মীর নুর মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে জানান, স্থানীয়রা বিষয়টি আমাকে জানালে রবিবার সকাল ১১টার নিহতের বাড়ি যাই। গিয়ে দেখি, আমজাদ আলী মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন ও রাবেয়া খাতুন শুয়ে রয়েছেন। বাড়িতে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছিল। পরে আমজাদ আলীকে জিজ্ঞেসে করলে তিনি (আমজাদ) আমাকে তাদের টিনের ঘরের বারান্দার ছোট একটি রুমে মাটি চাপা দেওয়া স্থানটি দেখান। আমজাদ আলীকে জিজ্ঞেস করলে আমাকে জানান, গত ১৪-১৫ বছর ধরে নেশা করে আব্দুল হক। গ্রামের বাড়িতে আসলে বাবা-মাকে অত্যাচার করে ছেলে। আমজাদ আলী ছেলেকে নেশার কবল থেকে সরাতে বহুবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। থানায় অভিযোগ ও মামলা করে অনেক টাকা খরচও করে। জেল থেকে বের হয়ে আবার মা-বাবাকে অত্যাচার করে। গত শনিবার রাতে আব্দুল হক তার মাকে মারধর শুরু করে। ফেরাতে গেলে ছেলে (আব্দুল হক) তার বাবার ওপর চড়াও হয়। পরে আমজাদ আলী ছেলেকে শাসন করার সময় লাঠির আঘাতে আব্দুল হক মারা যান। পরে কী করবে না বুঝে বিষয়টি চাপা দিতে মাটিতে পুঁতে ফেলে।

পরে চেয়ারম্যান বিষয়টি পুলিশকে জানান।

দুর্গাপুর থানার ওসি মো. শাহনুর-এ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয় এবং এ কাজে ব্যবহৃত মাটি খোঁড়ার কোদাল জব্দ করা হয়। বিকেলের মধ্যে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আমজাদ আলী ও মা রাবেয়া খাতুনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত