মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কমপক্ষে ৪০ নারীসহ ২০০জনকে পাচারের অভিযোগে আজাদ রহমান খান (৬৫) ও মো. লিটন মিয়া (৪৪) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের মিডিয়া উইং এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান। এদিন সকালে মিরপুর ও উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাদের কাছ থেকে প্রাইভেট কার, পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ল্যাপটপ, ৪০৭ পিস ইয়াবা ও ১২ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
কমান্ডার মঈন বলেন, সরকারি একটি সংস্থায় মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করত লিটন। অনৈতিক কাজের জন্য ২০১০ সালে তার চাকরি চলে যায়। এরপর ২০১৩ সালে সে ইরাকে গিয়ে আজাদসহ ১৫-২০ জনের একটি প্রতারক চক্র গড়ে তোলে। সেখান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে যেত। সেখানে এ ধরনের অপরাধের কারণে দুই বার গ্রেপ্তার হয় বলেও প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, দেশে এসে লিটন নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে মানব পাচারের নতুন ‘মিশন’ শুরু করে উল্লেখ করে র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, নার্স, পার্লারের কর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে চক্রটি পরিচালনা করা হত।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক, মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের আকৃষ্ট করা হত।
চিকিৎসক পরিচয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিছু নারীকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে পাঠিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চাকুরি প্রার্থীদের প্রথমে বাংলাদেশ থেকে টুরিস্ট ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে নেওয়া হত। সেখানে দুই একদিন অপেক্ষার পর ইরাকে পাচার করত। সেখানে কয়েকটি সেফ হাউসে রেখে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করে দেওয়া হত।
মঈন জানান, লিটন ও আজাদ দেশে এসে ইরাকের চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মানব পাচার করে আসছিল।
এই দুইজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার শিকার অনেকেই মামলা করেছেন এবং এগুলো তদন্তাধীন বলে জানান তিনি।
