যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ২০ পদের ১৭টি শূন্য

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৯ এএম

চরম জনবল সংকট নিয়ে চলছে সাতক্ষীরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরকার অনুমোদিত ২০টি পদের বিপরীতে ১৭টি পদে এখন কেউ নেই। ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর, প্রশিক্ষক (পশুপালন) ও ক্যাশিয়ার দিয়ে চলছে জেলার যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।

জনবলের অভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য পশুপালন কেন্দ্রে পালন করা হচ্ছে না কোনো পশু। হাঁস-মুরগি পালন কেন্দ্রেও নেই কোনো হাঁস-মুরগি। বহিরাগত প্রশিক্ষক দিয়ে কোনোভাবে চালানো হচ্ছে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে যেতে হচ্ছে বাইরের কোনো গরু-ছাগল বা হাঁস মুরগির খামারে।  

জেলা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অডিনেটরের কার্যালয় থেকে জানা যায়, জেলা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরকার অনুমোদিত পদ আছে ২০টি। সেগুলো হলোডেপুটি কো-অর্ডিনেটর, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষক (পশুপালন), সিনিয়র প্রশিক্ষক (মৎস্য), সিনিয়র প্রশিক্ষক (কৃষি), প্রশিক্ষক (পশুপালন), প্রশিক্ষক (মৎস্য), সহকারী প্রশিক্ষক (কৃষি), প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক, প্রদর্শক দুজন, ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক, ইলেকট্রিশিয়ান কাম পাম্প অপরেটর, বাবুর্চি, কিচেন কাম ডাইনিং অ্যাটেনডেন্ট, অফিস সহকারী, ক্যাটল অ্যান্ড পোলট্রি অ্যাটেনডেন্ট, ফরাস কাম নৈশপ্রহরী এবং ঝাড়–দার। এর মধ্যে ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর, প্রশিক্ষক (পশুপালন) ও ক্যাশিয়ার পদে একজন করে তিনজন কর্মরত আছেন। বাকি ১৭টি পদই দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য।

আরও জানা যায়, সাতক্ষীরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তিন অর্থবছরে প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ছয়শ জনের। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৬৮ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে পুরুষ ৪৯২ জন ও নারী ৭৬ জন। 

২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন মাস মেয়াদি গবাদি পশু পালনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ জন। এক মাস মেয়াদি গবাদি পশু পালনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ জন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তিন মাস মেয়াদি গবাদি পশু পালনে পুরুষ ৫৬ জন এবং মহিলা চারজন। এক মাস মেয়াদি গবাদি পশু পালনে পুরুষ ৩৪ জন এবং মহিলা ছয়জন। এক মাস মেয়াদি হাঁস-মুরগি পালনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ জন।

শিক্ষার্থীরা বলছে, এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমরা বাস্তব জীবনে তা প্রয়োগের চেষ্টা করি। কিন্তু এখানে জনবল সংকট থাকায় আমরা কাক্সিক্ষত প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এখান সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য বাইরের খামারে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে একজন প্রশিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই সনদ গ্রহণ করে তা প্রয়োগ করছে না। আবার কোনো কোনো যুবক প্রশিক্ষণ শেষে তা কাজে লাগিয়ে নিজের এবং পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।

সাতক্ষীরা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অনেক বেকার তরুণ-তরুণী তাদের জীবনের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। জনবল সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনবলের সংকট আছে। তবে জনবল চেয়ে অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত