চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো সার্টিফিকেট ছিল না মার্টিন কোনির। মুরগির বাচ্চা বাঁচানোর হ্যাচারিকে অপরিণত শিশুর জীবন বাঁচানো ইনকিউবেটর বানিয়েছিলেন। শিশুদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। চিকিৎসক না হয়েও শিশুদের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসা মার্টিন কোনিকে নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
ইনকিউবেটরের প্রদর্শনী
২০ শতকের শুরু থেকে আমেরিকার চিকিৎসকরা অপরিণত (প্রিম্যাচিওর) শিশুদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি ছিল না। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটে এমন ঘটনা ঘটত খুব কমই। তবে একটা জায়গা ছিল যেখানে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বাবা-মায়েরা একটু আশার খোঁজে যেতে পারতেন। জায়গাটির নাম কোনি আইল্যান্ড। এখানে এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি হাজার সন্তানের জীবন বাঁচিয়েছেন, বদলে দিয়েছেন আমেরিকার চিকিৎসা বিজ্ঞান। কোনি আইল্যান্ডে গেলে দারুণ একটি দৃশ্য দেখা যেত সে শতকে। ডা. কোনি নামে একজন চিকিৎসক নিয়মিত একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করতেন। এই বিশেষ প্রদর্শনীতে ফি দিয়ে ঢুকলে দেখা যেত সারি সারি অপরিণত নবজাতক ইনকিউবেটরের গ্লাসের ভেতরে বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। যাদের একেকজনের দেহের ওজন আধা কেজিরও কম। সে সময় মার্টিন কোনির এই উদ্যোগ জনমনে বেশ আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল। পাশাপাশি অপরিণত নবজাতকদের যতেœ সবার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতেও সাহায্য করেছে।
মার্টিন কোনি
কীভাবে এই ইনকিউবেটরের প্রদর্শনী চালু হলো সে ঘটনা জানতে হলে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। পোল্যান্ডের ক্রোটোজিনে ১৮৬৯ সালে জন্মেছিলেন মার্টিন কোনি। ১৮৮৭ সালে আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার জীবন কাহিনী নিয়ে তেমন তথ্য পাওয়া যায় না। জানা যায়, প্রথমদিকে স্থানীয় মেলা কিংবা বিনোদন পার্কে তিনি নানা রকম প্রদর্শনী ও খেলা দেখিয়ে দর্শক জমিয়ে এবং বাচ্চাদের খেলনা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ইতিহাসের নথিপত্র থেকে আরও জানা যায়, কোনি দাবি করতেন লিপজিগ ও বার্লিনের মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করার পর তিনি ইউরোপিয়ান মেডিকেল লাইসেন্সের অধিকারী হন। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, কোনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়ে চিকিৎসক হননি। তাদের দাবির পক্ষে অবশ্য যুক্তি আছে। কারণ কোনি যখন ইউরোপ থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার কথা বলেছেন, তখন নাকি তার কলেজে ভর্তির বয়সই হয়নি।
কোনি আরও বলেছিলেন, বিখ্যাত ডা. পিয়েরে কনস্ট্যান্ট বুদিনের তত্ত্বাবধানেও তিনি পড়াশোনা করেছেন। ডা. বুদিনকে মডার্ন নিওন্যাটাল (নবজাতক বাচ্চার জন্ম হওয়া থেকে এক মাস পর্যন্ত যত্ন) মেডিসিনের জনক বলা হয়। ১৮৯৬ সালে জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত এক বৃহৎ শিল্প প্রদর্শনীতে ডা. বুদিন তার ‘চাইল্ড হ্যাচারি’ প্রজেক্ট লাখো দর্শনার্থীর সামনে যখন প্রদর্শন করেন, তাতে মেডিকেল সহকারী হিসেবে ছিলেন মার্টিন কোনি। সে সময় ডা. বুদিনের এই হ্যাচারি প্রজেক্ট বেশ সফলতার মুখ দেখেছিল। পরে এই হ্যাচারি মুরগির ফার্মে মুরগির বাচ্চার যত্নে ব্যবহৃত হয়েছিল। মানুষের বাচ্চার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখার সাহস করেননি বুদিনও। ১৯০৭ সালের দিকে কোনিই সর্বপ্রথম ইনকিউবেটরের সাহায্যে অপরিণত নবজাতকদের বাঁচানোর সাহসী এই পদক্ষেপের সূচনা করেন। ১৯০৩ সালে মার্টিন কোনি এনাবেল নামে এক নার্সকে বিয়ে করেন। চার বছর পর এনাবেল নির্ধারিত সময়ের ছয় সপ্তাহ আগে হিলডেগার্ড নামের এক অপরিণত কন্যাশিশুর জন্ম দেন। যার ওজন ছিল মাত্র দেড় কেজি। বাবা মার্টিন কোনি যদি ইনকিউবেটরের সঙ্গে জড়িত না থাকতেন তাহলে হয়তো হিলডেগার্ডও পৃথিবীর আলো দেখতে পেত না। সে সময় নবজাতকদের যতেœ তেমন সেবা পাওয়া যেত না। সেজন্য গড়ে চারজন অপরিণত নবজাতকের মধ্যে তিনজনই মারা যেত।
জীবন রক্ষাকারী উদ্যোগ
কোনির এই জীবন রক্ষাকারী উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষ যেন আরও জানতে পারে সেজন্য তিনি দ্বীপের প্রধান দুটি বিনোদন পার্ক লুনা ও ড্রিমল্যান্ডে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলেন। ড্রিমল্যান্ড পার্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১৯১১ সালে প্রদর্শনী স্থগিত হয়ে যায়। অবশ্য ইনকিউবেটরে রাখা অপরিণত বাচ্চাগুলোকে নিউ ইয়র্ক পুলিশের প্রচেষ্টায় বাঁচানো হয়েছিল। পরে এই বাচ্চাদের লুনা পার্কের প্রদর্শনীতে স্থানান্তর করা হয় এবং প্রায় ৪০ বছর ধরে ওই প্রদর্শনী চলেছিল।
প্রদর্শনী থেকে পাওয়া অর্থ সেসব অপরিণত বাচ্চার যত্নের পাশাপাশি কোনির ‘চাইল্ড হ্যাচারি’র ব্যবস্থাপনায়ও খরচ করা হতো। ইউনা পার্কের প্রদর্শনী যখন কোনি বন্ধ করে দিলেন তখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার শিশু তার ইনকিউবেটরে সেবা পেয়েছিল। তার মধ্যে সাড়ে ছয় হাজার শিশুকে তিনি বাঁচাতে পেরেছিলেন। বেঁচে যাওয়া শিশুর মধ্যে তার মেয়ে হিলডেগার্ডও ছিল। ইনকিউবেটরে নবজাতকদের বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কোনির সফলতার হার ছিল ৮৫ শতাংশেরও বেশি।
কেন এমন সিদ্ধান্ত
ডা. কোনি শুরু থেকেই বলেছেন, তিনি অপরিণত শিশুদের বিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে চান। অবহেলার কারণে যেন বাচ্চারা জন্মের পর না মারা যায় সেটাই তার চেষ্টা ছিল সব সময়। তিনি চিকিৎসা জগৎকে বোঝাতে চেয়েছেন, সঠিক চিকিৎসা দিলে অপরিণত শিশুদের বাঁচানো সম্ভব। তা ছাড়া, তিনি এটাও নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে জনসাধারণ এই চিকিৎসার সুফল দেখতে পাবে এবং বিশ্বাস করবে যে তাদের বাচ্চাদের বাঁচানো যাবে। আধুনিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলেও কোনি যে পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করেছিলেন তা কিছুটা অদ্ভুত ছিল। কিন্তু এই পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমেই অপরিণত শিশুদের জীবন বেঁচে গিয়েছে।
তিনি অপরিণত শিশুদের ইনকিউবেটরে রেখে বাইরেই রাখতেন। এমনটি তিনি করতেন যেন সরাসরি মানুষ এসে দেখতে পায় কীভাবে শিশুরা জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছে। পদ্ধতিটি অপ্রচলিত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়েই কোনি তার কাজের জন্য ফান্ডিং জোগাড় করতেন। একমাত্র তিনিই জীবন বাঁচানো এ পদ্ধতির অফার করেছিলেন।
সে সময় হাসপাতালগুলোতে অপরিণত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ইনকিউবেটর ছিল না। কোনি শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন ঠিকই, তবে সমস্যা হচ্ছিল শিশুদের বুকের দুধের জোগান দেওয়া ও নার্সের সেবা নিয়ে। আমেরিকানরা তখন বিশ্বাস করত অপরিণত শিশুরা সমাজের জন্য এক ধরনের বোঝা। তাদের এই কথাকে সমর্থন করে বিভিন্ন পত্রিকায়ও লেখালেখি হতো। পেশাদার চিকিৎসকরা এমন শিশুদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা তো দূরে থাক, তাদের পেছনে সময় দিয়ে চিকিৎসা করাকেও সময় নষ্ট বলে মনে করতেন। অথচ পেশাদার না হয়েও সবার থেকে আলাদা ছিলেন ডা. কোনি।
চিকিৎসক রূপে
হাজার হাজার শিশুকে মৃত্যুর পথ থেকে ফিরিয়ে আনলেও চিকিৎসক হিসেবে সরাসরি কোনো ডিগ্রি ছিল না মার্টিন কোনির। এই পদবি তিনি নিজেই নিজেকে দিয়েছেন। নিজের কাজকে দিয়েছেন অগ্রগতি। তিনি জানতেন, কিছুটা অসৎ পথের সাহায্য নিলেও তার ভুয়া ডিগ্রি সহজেই কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। কারণ সে সময় ইন্টারনেট ছিল না, বেশি দূরত্বে যোগাযোগের জন্য ফোন ছিল না, এমন কোনো উপায় ছিল না যাতে কোনির ভুয়া পরিচয় শনাক্ত করা যায়। লোকে শুধু অপরিণত শিশুদের বাঁচানোর জন্য তার প্রচেষ্টাকে দেখত। তাকে সত্যিকারের চিকিৎসক ভেবেই খুশি থাকত।
জীবদ্দশায় অসংখ্য অপরিণত শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন কোনি। শিশুদের ইনকিউবেটর থেকে সুস্থভাবে বের করে আনার পরও তাদের পাশে বসে থাকতেন কোনি। বেঁচে যাওয়া শিশুদের জন্য পরিবার যখন জন্মদিন পালন করত অথবা বড় হয়ে যাওয়ার পর বিয়ের অনুষ্ঠান হলে সেখানেও দাওয়াত পেতেন ডা. কোনি। এক কথায়, সবার জীবনে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন সবচেয়ে আপন মানুষ হিসেবে। প্রদর্শনীতে যেন মানুষ আসে সেজন্য মানুষ ঠিক করে রাখতেন কোনি। তাদের কাজ ছিল শুধু ‘শিশুদের দেখে যেতে ভুলে যেও না!’ সেøাগান দিয়ে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা। এই স্লোগানে বেশ ভালোই কাজ হতো। দলে দলে মানুষ আসত অপরিণত শিশুদের দেখতে। ১৯২২ সালে দালাল হিসেবে একজন ব্রিটিশ অভিনেতাকে নিয়োগ দেন কোনি। তার নাম ছিল আর্চিবাল্ড লিচ। পরে তার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ক্যারি গ্র্যান্ট। তার কারণেও অনেকে এই প্রদর্শনী দেখতে আগ্রহী হয়েছিল।
অপরিণত শিশুদের অভিভাবকদের হাসপাতাল থেকে খুব বেশি আশার বাণী কখনো দেওয়া হতো না। নিরুপায় বাবা-মায়েরা তখন কোনির কাছে আসতেন। ভয়ে ভয়ে সন্তানকে কোনির ইনকিউবেটরে রেখে যেতেন এ আশায় যে, তাদের সন্তান হয়তো পৃথিবী দেখার জন্য বেঁচে থাকবে। হাসপাতালগুলোর কাছে যেটা নামেমাত্র আশা, কোনির কাছে সেটা তখন মিশন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
কোনির নতুন পদ্ধতি
নতুন একটি শিশু যখন কোনির কাছে আসত, শুরুতে তাকে গোসল করানো হতো। এরপর অ্যালকোহল দিয়ে আলতো করে ঘষে ভালো করে কাপড় দিয়ে বেঁধে ইনকিউবেটরে রাখা হতো। শিশুর অবস্থার ওপর নির্ভর করে তাপমাত্রা নির্ধারণ করা হতো খুব সাবধানে। যে শিশুরা বুকের দুধ পান করতে পারত তাদের ছোট একটি এলিভেটরের সাহায্যে ওপরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে কয়েকজন নার্স থাকতেন যারা এই শিশুদের বুকের দুধ পান করাতেন। যারা নিজ থেকে খেতে পারত না, তাদের ফানেল আকৃতির চামচ দিয়ে দুধ পান করানো হতো।
কতগুলো শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন তা নিয়ে কোনো রেকর্ড রেখে যাননি কোনি। তবে এটা সত্যি যে, সব শিশুকে তিনি বাঁচাতে পারেননি। তার দাবি ছিল তার কাছে আসা ৮৫ শতাংশ শিশুকে তিনি বাঁচাতে পেরেছেন। তিনি চেষ্টা না করলে এই শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যেত না।
বলা হয়, কোনির ইনকিউবেটরে যদি শিশুরা সাত দিন বেঁচে থাকতে পারত তাহলে তার জীবন রক্ষা পেত। অর্থাৎ তার কাছে আনার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বোঝা যেত শিশুটির বাঁচার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না।
চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের অজ্ঞতা
অপরিণত শিশুদের সাহায্য করার জন্য কোনির এই পদ্ধতি ব্যাপক সাফল্য পেলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন ট্র্যাজেডি শুরু হয়েছিল। ১৯০৪ সালে বৈশ্বিক এক মেলায় সেন্ট লুইস ইনকিউবেটরের প্রদর্শনী করলেও সেখানে কোনিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তার বদলে জোসেফ হার্ডি নামে একজন নিলামকারীকে আনা হয়। অথচ তিনি অপরিণত শিশুদের যতœ নিয়ে কিছুই জানতেন না। তার শুধু একটি চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রশংসাপত্র ছিল।
এই প্রদর্শনী খুব বেশিদিন চলেনি। প্রদর্শনী শেষে হিউম্যান সোসাইটি এক্সামিনেশন একটি জরিপ করে। তাতে জানা যায়, ইনকিউবেটরে রাখা ৪৩ জন শিশুর মধ্যে ৩৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর নিউ ইয়র্কের একটি ইভনিং জার্নালে কোনি ‘দশকের সবচেয়ে বড় অপরাধ’ শিরোনামে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন।
শেষ জীবন
১৯৪০-এর দশকে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা অবশেষে চাইল্ড হ্যাচারির ধারণাকে আমলে নেন। নবজাতক শিশুদের যতেœ এই পদ্ধতি হাসপাতালে ব্যবহার করা শুরু করেন। এরপর ১৯৪৩ সালে কোনি ইনকিউবেটরের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেন। সেই চাইল্ড হ্যাচারিকে (বর্তমানে যা ইনকিউবেটর) মেডিকেল কমিউনিটি ও হাসপাতালগুলোতে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পর, পরে নানাবিধ পরিবর্তন এনে সেটাকে আরও কার্যকর করা হয়। কোনির ব্যবহৃত অনেক কৌশলই বর্তমানে নবজাতকদের চিকিৎসাসেবায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে সদ্যোজাত বাচ্চাকে জীবাণুমুক্ত করার বিশেষ পদ্ধতি এবং ‘ক্যাঙারু কেয়ার’ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে অপরিণত বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর, তাদের বেঁচে থাকার হার আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
১৯৫০ সালে ৮০ বছর বয়সে কোনি মৃত্যুবরণ করেন। অপরিণত শিশুদের নতুন জীবন দেওয়ার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞান উন্নত হলেও অপরিণত শিশুদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তেমন কিছু ভাবা হয়নি। আজও হয়তো শিশুদের মৃত্যু হতেই থাকত যদি কোনির মতো মহৎ প্রাণ এগিয়ে না আসতেন। জীবদ্দশায় প্রায় সাত হাজার শিশুর জীবন কোনি নিজ হাতে বাঁচিয়েছেন। তাকে নিয়ে ডন রাফেলের লেখা একটি বইও আছে। বইয়ের নাম ‘The Strange Case of Dr. Couney : How a Mysterious European Showman Saved Thousands of American Babies।
