দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় এক অনুষ্ঠানে দেওয়ার বক্তব্য ভুলভাবে গণমাধ্যমে এসেছে অভিযোগ করে নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম।
সোমবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘গত ১৪ সেপ্টেম্বর আমি নওগাঁ সদরে অনুষ্ঠিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করি এবং বক্তব্য প্রদান করি। অনুষ্ঠানে প্রদত্ত আমার বক্তব্যকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে নিজ মনগড়াভাবে কিছু সাংবাদিক আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য হিসেবে অনলাইনভিত্তিক সংবাদপত্রসহ কিছু পত্রিকায় প্রকাশ করে।’
‘বিষয়টি নওগাঁ প্রেসক্লাবের সভাপতি/সেক্রেটারির দৃষ্টিতে আনা হলে তারা উক্ত সাংবাদিকদেরসহ জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন অফিসারের নিকট উপস্থিত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে সংবাদটি প্রত্যাহার করেন। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি টেলিফোনে ভুল স্বীকার করে মাফ চেয়েছেন’।
তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করছি আমার এ সংবাদের সত্যতা যাচাই ছাড়াই অনলাইন ভিত্তিক সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেলে সাব এডিটরিয়াল লেখা হচ্ছে। এ ছাড়া টকশোতে আলোচনা হচ্ছে, যা সত্যের অপলাপ। যা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর, অসম্মানজনক এবং দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল’।
‘সংশ্লিষ্ট অনলাইন পত্রিকাগুলি সংবাদটি তুলে নিয়ে সংশোধিত সংবাদ প্রকাশের পরও যা আমি বলি নাই তা বারবার আলোচনায় আসছে যা দুঃখজনক এবং কোনোক্রমে কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচারে সম্মানিত সংশ্লিষ্ট সঞ্চালক ও আলোচক বিরত থাকবেন বলে প্রত্যাশা করছি। আমার বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্র জেলা প্রশাসকের ফেসবুক, গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউটিউব চ্যানেল এবং আমার কাছে সংরক্ষিত আছে’।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্বোধনের জন্য গেছিলাম। পুরো বক্তব্য ওইটার ওপরেই ছিল। আর ওখানে বক্তব্যগুলো এসেছে, সেখানে বলা হয়েছে যে- সারা বাংলাদেশে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হলেও নওগাঁয় সুষ্ঠু হবে, যেটা আমার বক্তব্যের মধ্যে ছিল না। আমার ভিডিও ক্লিপ তার সাক্ষ্য দেবে’।
তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন সম্পর্কে আমি শুধু, যেহেতু ওখানে ইউপি চেয়ারম্যানেরা উপস্থিত ছিলেন কার্ড নেওয়ার জন্য, আমি একটা মেসেজ দিয়েছিলাম যে, আপনারা সামনে যে ইউপি নির্বাচন হবে; সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য সহযোগিতা করবেন। যে বক্তব্য এসেছে, সেটা আমার বক্তব্যের মধ্যে ছিল না। সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে অনলাইনে, পত্রিকাগুলোয় এসেছে। তারা অন্যায় স্বীকার করে মাফ চেয়েছে’।
