সমাজ সেবা অফিস থেকে ২ হাজার সুবিধাভোগীর তথ্য উধাও, পাচ্ছেন না ভাতা

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৪ পিএম

সৈয়দপুর ইউনিয়নের কেদারখীল গ্রামের আনোয়ারা বেগমের বয়স ৮০ বছর। স্বামী মারা গেছে ৩০ বছর আগে। অভাবের সংসারে ছেলে মেয়েকে বড় করেছেন। ছেলেরাও দিন এনে দিন খায়। আনোয়ারা বেগম এক মাস করে পালা করে চার ছেলের কাছে থাকেন। সরকার থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক ভাতা দিয়ে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ আরও কয়েকটি ওষুধ নিয়মিত কেনেন তিনি। গত বছর সরকার সরাসরি উপকারভোগীকে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত (জিটুপি) নিলে সবার মতো তিনিও বইটি সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে জমা দেন। সমাজ সেবা অফিস তাকে বইটি আর ফেরত দেয়নি। ফলে মার্চ ও জুলাই মাসের বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। সমাজ সেবা অফিসে গত কয়েক মাস ঘুরেও এর কোন সমাধান পাননি আনোয়ারা বেগম। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন আনোয়ারা বেগমের ছেলে জেবল হোসেন।

এ ছাড়া এই সেবা গ্রহণ করতে আসা লোকজন প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তা ছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি উপকার ভোগীদের বই হারানো প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জানা যায় এ রকম অন্তত ২০০০ উপকার ভোগীর বই হারিয়েছে সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজ সেবা অফিস।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সামনে জটলা দেখে খোঁজ নিতে গেলে কথা হয় কুমিরার বিধবা নীহারবালা, প্রতিবন্ধী রঞ্জিত জলদাসের পিতা নরউত্তম জলদাস, বাড়বকুণ্ডের রেহানা বেগম পুতুল, সৈয়দপুরের বিধবা সোলেমার সঙ্গে। সমাজ সেবা অফিসে জমা নেওয়ার পর তাদের সবার বই হারিয়ে যায় বলে তারা জানান। এদের সবাই বর্তমানে ভাতা বঞ্চিত। একইভাবে প্রতিবন্ধী জোবেদা আক্তার সুমির বইও হারিয়েছেন বলে তার ভাই নুরুল ইসলাম জানান।

তবে বই হারানোসহ মোবাইল নম্বর হালনাগাদ করার সময় কিছু সমস্যা হওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা বেগম বলেন, ‘যাদের বই হারিয়েছে তাদের সবার তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ও যারা ভাতা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত