রাজধানীর সবুজবাগ মধ্য বাসাবোর একটি বাসা থেকে নিচে পড়ে শওকত হোসেন ফকির (৩৫) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মধ্য বাসাবোর খেলার মাঠ সংলগ্ন নাভানা টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, মানসিক রোগী ছিলেন শওকত হোসেন। ২০ বছর আগে থেকে মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন তিনি। সে কারণেই হয়তো আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। বাসাটির ছাদের সিসি ক্যামেরা ফুটেজেও তাকে এক পাশ থেকে অন্যপাশে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। এ সময় ছাদে আর কেউই ছিলেন না।
নিহতের বড় বোন সুলতানা মাহমুদা জানান, বেসিক ব্যাংকের ফকিরাপুল শাখার সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন শওকত হোসেন। গাজিপুর কালিগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে তিনি। ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আয়শা আক্তারকে নিয়ে নাভানা টাওয়ারে ৫ম তলায় থাকতেন তিনি। ওই বাসাতেই থাকতেন বড় বোন সুলতানা মাহমুদ।
তিনি জানান, সকালে তিনি (সুলতানা মাহমুদ) অফিসে যাওয়ার পর মোবাইলে ফোনের মাধ্যমে খবর পান শওকত ভবন থেকে পড়ে গেছে। এরপর তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার মৃতদেহ দেখতে পান। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি তিনি। তবে শওকত হোসেন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে পারেন বলে ধারণা করছেন তারা।
শওকত হোসেনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পথচারী তৌফিক জানান, নাভানা টাওয়ারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভবনের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. মোরাদুল ইসলাম বলেন, শওকত হোসেনের স্ত্রী, ওই বাসার গৃহকর্মী ও তার বড় বোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পারিবারিক কলহ বা ঝগড়াঝাঁটির কোনো তথ্য পাইনি। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, অনেক আগে থেকে শওকতের মানসিক সমস্যা ছিল। সে কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ছাদের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে তাকে একপাশ থেকে অন্যপাশে দৌড় দিতে দেখা গেছে। আমরা তদন্ত করছি।
