চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট, বাদুরতলা ও বাকলিয়াসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৪ সালে হাতে নেওয়া বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পটির কাজ সাত বছরেও শুরু হয়নি। অথচ নানা অসঙ্গতি ও নির্ধারিত সময়ে খননকাজ শুরু না করায় প্রকল্পের ব্যয় তিন দফায় বেড়ে ২৮৯ কোটি থেকে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আর্থিক সংকট ও জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এতদিন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ থমকে ছিল। আসছে শুষ্ক মৌসুমেই খালটির খননকাজ শুরু হবে।
চসিক থেকে পাওয়া তথ্য মতে, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পটি ২০১৪ সালের ২৪ জুন একনেক সভায় অনুমোদন পায়। তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পরবর্তীকালে নানা কারণে প্রথম দফায় ৩৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। সে সময় ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি চসিক। এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পটির ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তখন বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। সর্বশেষ গত জুন মাসে তৃতীয় দফা সংশোধন করে আবারও ব্যয় ও মেয়াদ দুটোই বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাল খননের জন্য ২৫ একর জমি অধিগ্রহণে শুরুতে ২২৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। ওই সময় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ ছিল দেড় গুণ, কিন্তু পরে সরকারি নির্দেশনায় তা তিন গুণ করা হয়। বর্তমানে এ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ১ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। সরকার ইতিমধ্যে ৯১৪ কোটি টাকা চসিককে দিয়েছে। এই টাকা আবার ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে দিয়েছে চসিক। শুরুর দিকে প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ অর্থায়নের কথা ছিল সরকারের। বাকি ২৫ শতাংশ জোগান দেওয়ার কথা ছিল চসিকের। ২০১৪ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র বিএনপির মো. মনজুর আলমের সময় এই প্রকল্পটি অনুমোদন পেলেও পরবর্তী সময়ে ৫ বছর (২০১৫-২০২০ সাল) ক্ষমতাসীন দলের আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনিও আর্থিক সংকটের কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন।
এ প্রসঙ্গে বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের পরিচালক ও চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে এতদিন প্রকল্পটির কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনকে জমি অধিগ্রহণের জন্য পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিলেই খননকাজ শুরু হবে।’
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে জানিয়ে চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসছে শুষ্ক মৌসুমেই বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কিছু কিছু এলাকায় জমি অধিগ্রহণের জন্য সাত ধারা অনুযায়ী নোটিস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর বহদ্দারহাট, নাসিরাবাদ, শুলকবহর, বারইপাড়া, বাদুরতলা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও চাক্তাই এলাকার দশ লক্ষাধিক মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেবে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা জরুরি।
