পোলট্রি, মৎস্য ও ক্যাটল ফিড তৈরির অন্যতম উপাদান সয়াবিন মিল রপ্তানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তারা বলেছেন, রপ্তানির সিদ্ধান্ত হওয়ার পর থেকে স্থানীয় সয়াবিন মিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাম কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
তাদের দাবি, এর ফলে ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সয়াবিন মিলের সংকটের কারণে অনেক ফিডমিলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। প্রচুর খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি বন্ধ না হলে হারিয়ে যবে অর্ধেক খামারি ।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহসানুজ্জামান বলেন, সয়াবিন মিল বিদেশে রপ্তানি করলে দেশের প্রায় অর্ধেক খামার ব্যবসায়ি ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবে। সে ক্ষেত্রে কিছু মনোপলি ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে এ খাত।
এ সময় বলা হয়, দেশের ফিড মিলগুলোতে ব্যবহৃত কাঁচামালের অধিকাংশই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমানে চাহিদাকৃত ‘সয়াবিন মিল’ দেশীয় সয়াবিন তৈল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও ভারত, আমেরিকা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। দেশে ‘সয়াবিন মিল’র মোট চাহিদা বছরে প্রায় ১৮-২০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৭৫-৮০ ভাগ দেশীয় সয়াবিন তৈল উৎপাদকারী প্রতিষ্ঠান হতে এবং অবশিষ্ট ২০-২৫ ভাগ আমদানির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
উল্লেখ্য, দেশে উৎপাদিত সয়াবিন মিলের একমাত্র ক্রেতা হচ্ছে পোল্ট্রি, মৎস্য, ক্যাটল ও ফিড উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারন খামারিবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সয়াবিন মিলের রপ্তানির সিদ্ধান্তে খামারিরা উদ্বিগ্ন কারণ ডিম, মাছ, মুরগী উৎপাদনে মোট খরচের প্রায় ৭০-৭৫ শতাংশ খরচই হয় ফিড ক্রয় বাবদ। তাই ফিডের মূল্য বৃদ্ধি পেলে খামারিদের উৎপাদন খরচ বাড়ে; অন্যদিকে খরচের বিপরীতে পণ্যের নায্য দাম না পাওয়ায় বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়তে হয় তাদের।
এসময়, ফিড ইন্ডাস্ট্রেজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) ও ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা-বিবি) সভাপতি মসিউর রহমান, সহ-সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ উপস্থিত ছিলেন।
