লোকবল সংকটে ধুঁকে ধুঁকে চলছে সীতাকুন্ড সরকারি হাঁস-মুরগির খামার। খামারের ১৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়দের ডিম-মুরগির চাহিদা পূরণ করতে পারছে না খামার কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা খামারের সামনে একাধিকবার বিক্ষোভ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ডিম ও মাংসের চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে সরকার ১৯৮৭ সালে উপজেলার শেখপাড়ায় সরকারি হাঁস-মুরগির খামার প্রতিষ্ঠা করে। এই খামারে মোট শেড রয়েছে ১৩টি। প্রথম দিকে এসব শেডে ব্যাপক আকারে উৎপাদন হলে সরকারি অন্যান্য খামারে সাপ্লাই দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম-মুরগি থাকত। ফলে স্থানীয়দের চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত ডিম ও মুরগি বাইরে বিক্রি করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে লোকবলের অভাবে মাত্র চারটি শেডে মুরগি পালন করা হচ্ছে। ফলে শুধু সরকারি অন্যান্য খামারের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
জানা যায়, খামারের পোলট্রি এটেনডেন্ট পদে পাঁচজন থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন তিনজন। এই তিনজনের মধ্যে একজন আবার ডেপুটেশনে পটিয়া খামারে কর্মরত আছেন। টেকনিশিয়ান দুজনের একজনও নেই, কেরানি ও কম্পিউটার অপারেটর পদে নেই একজনও। গুরুত্বপূর্ণ প্যাথলজিস্ট ও হ্যাচারি এটেনডেন্ট পদের চারটিই খালি।
স্থানীয়রা জানান, তারা একাধিকবার খামারের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ নিয়ে খামারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় এক ব্যক্তির নামে মামলাও দেয় খামার কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসে একা বসে আছেন খামারের উপপরিচালক ডা. আতিয়ার রহমান। জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘আমিই পিয়ন, আমিই কেরানি আবার আমিই খামারের পরিচালক।’ তিনি জানান, লোকবল সংকটের কারণে চাহিদা এবং সুযোগ থাকার পরও পর্যাপ্ত ডিম ও মাংস উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। নয়জনের কাজ দুজনকে দিয়ে করাতে সব শেডেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে। ফলে এক শেডের মুরগি কোনো জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে অন্য শেডের মুরগিও একই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আঞ্চলিক হাঁস-মুরগির খামার চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডা. মোতালেব বলেন, ‘সরকারি হাঁস-মুরগির অনেক খামারের চিত্রই এমন। তবে শূন্য পদে লোক নিয়োগ দেওয়ার জন্য মহাপরিচালক বরাবর আমরা লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
