শাহজাদপুরে কৃষক হত্যা

গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামছাড়া দুই হাজার নারী-পুরুষ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩০ পিএম

শাহজাদপুরের কৈজুরি ইউনিয়নের পূর্বচরকৈজুরি গ্রামের কৃষক গোঞ্জের আলী খান (৬০) হত্যার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিন দিন ধরে গ্রামছাড়া বাদী-বিবাদীপক্ষের অন্তত দুই হাজার নারী-পুরুষ। ফলে তাদের বাজারঘাট, ঘরসংসার ও গরু-বাছুরকে খাওয়ানো বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের ঘরে তিন দিন ধরে জ্বলছে না চুলা। এতে গ্রামজুড়ে হাহাকারের অবস্থা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে কৈজুরি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য চুন্নু গ্রুপের মনোয়ার হোসেন মনো, রওশন জোয়ার্দ্দার ও বাবলু প্রামাণিক বলেন, কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের ইন্দনে ওই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুল গফুর প্রামাণিকের নেতৃত্বে শতাধিক নারী-পুরুষ গত শুক্রবার সকালে অতর্কিতে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় তাদের বাধা দিলে তারা কৃষক গোঞ্জের আলীকে ফালাবিদ্ধ ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে কোনো মামলা বা অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ আমাদের পক্ষের চারজনকে রাস্তা ও বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এছাড়া পুলিশের ধাওয়ায় আমাদের কোনো লোকজন বাড়িতে থাকতে পারছে না। অথচ কৃষক গোঞ্জের হত্যার তিন দিন কেটে গেলেও পুলিশ এ পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ আসামিদের পক্ষে কাজ করছেÑ এমনটাই বোঝা যাচ্ছে।

এদিকে কৃষক গোঞ্জের হত্যার ঘটনায় গত শনিবার সকালে ৮০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহতের ছোট ভাই শফি আলম খান।

এ বিষয়ে ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুল গফুর প্রামাণিকের বাড়ি গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। তার পক্ষের কেউ কথা বলতেও রাজি হয়নি। কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা তৎপর রয়েছি। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পুলিশ কাউকে হয়রানি করছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত