বামপন্থার সঙ্গে বিচ্ছেদ, পার্টি অফিস থেকে এসিও খুলে নিলেন কানহাইয়া!

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৮ পিএম

এক সময় সারা ভারতে প্রায় রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বামপন্থী নেতা কানহাইয়া কুমার কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন। মঙ্গলবারই রাহুল গান্ধীর হাত থেকে কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে হাত শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার।

ভারতে বামপন্থী রাজনীতির পরবর্তী প্রজন্মের মুখ মনে করা হত তাঁকে। এহেন কানহাইয়া কুমার বামপন্থা ছেড়ে ধরছেন কংগ্রেসের হাত। কংগ্রেসের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীর উপস্থিততে আজই কংগ্রেসে নাম লেখানোর কথা ছিল কানহাইয়ার।

তার আগে বিহারে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (সিপিআই) রাজ্য অফিসে নিজের লাগানো এসি মেশিন খুলে নিলেন কানহাইয়া কুমার। বিহারে সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক রাম নরেশ পান্ডে এই কথা জানিয়েছেন।

এদিকে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরেই কানহাইয়ার যোগদানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার আগে কানহাইয়া নয়াদিল্লির শহিদ-এ-আজম ভগৎ সিং পার্কে দুপুর আড়াইটে নাগাদ যান বলে খবর।

কানহাইয়ার কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনা আরও বাড়ে দিন তিনেক আগে। যখন একটি সংবাদসংস্থার তরফে জানানো হয় যে কানহাইয়ার কংগ্রেসে যোগদান প্রায় পাকা। আজ, মঙ্গলবারই তিনি রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের সতীর্থ হতে চলেছেন। দেখা যাচ্ছে যে সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিহারের বেগুলরাই কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন কানহাইয়া। কিন্তু জিততে পারেননি। তার পর থেকে তাঁকে সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি। তিনি একসময় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিলেন। সেই সময় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কানহাইয়ার বিরুদ্ধে। তবে কানহাইয়া কুমার জাতীয় স্তরে বেশ জনপ্রিয় রাজনীতিক।

ভারতের অ-বাম দলগুলিকে আক্রমণের টার্গেটে রাখলেও প্রথম থেকেই কানহাইয়া কখনও সরাসরি কংগ্রেস বা রাহুলগান্ধীকে সেভাবে আক্রমণ করেননি।

২০১৯ এ সিপিআই-এর টিকিটে বিহারের বেঙ্গুসরাই থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কানহাইয়া। সে সময় বিজেপির গিরিরাজ সিংয়ের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। তারপর থেকেই সু-বক্তা কানহাইয়া কুমারকে দলে নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল কংগ্রেস।

২০১৬ সালে রাহুল গান্ধী জেএনইউ-তে গিয়ে কানহাইয়াদের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। ছাড়া পেয়ে কনহাইয়াও রাহুলকে ধন্যবাদ জানান। তবে ২০১৯ এ যখন কানহাইয়াকে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল দেশদ্রোহীতার মমলায় তখন কংগ্রেস নেতারা এবং রাহুল গান্ধী চুপই ছিলেন।

রাজনৈতিক পণ্ডিতরা রাহুলের কংগ্রেসের নীরবতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি কানহাইয়াকে সমর্থন করলে তাদের দেশবিরোধী হিসেবে প্রচার শুরু করত গেরুয়া শিবির। এই কারণেই ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে আরজেডি-কংগ্রেস জুটি বেগুসরাই আসনে বিজেপির গিরিরাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে কানহাইয়াকে সমর্থন করেনি। শেষ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সিংয়ের কাছে প্রায় ৪.২ লাখ ভোটে পরাজিত হন কানহাইয়া।

শেষ এক দশকে নরেন্দ্র মোদীর সামনে ঠিক কাকে কোন ইস্যুতে দাঁড় করাবে তা খুঁজে পায়নি বিজেপি বিরোধী দলগুল। ঠিক সে সময়ই ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিতর্কের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমেড় শিরোনামে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কানহাইয়া কুমার।

এরপর কানহাইয়ার গ্রেফতারি, ছাড়া পাওয়া, ফিরে এসে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে উমর খালিদদের পাশে নিয়ে ‘হাম ক্যায় চাহতে, আজাদি, যো তুম না দোগে আজাদি তো হাম ছিনকে লেঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তোলা! রাতারাতি দেশের বিজেপি বিরোধীদের কাছে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন কানহাইয়া। এরপর যমুনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে, কানহাইয়ার কংগ্রেসে যোগদান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত